• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
  • রাত ১০:২৭

খুলনা কারাগারে মায়ের সঙ্গে ৯ শিশুর বসবাস

খুলনা কারাগারে মায়ের সঙ্গে ৯ শিশুর বসবাস
মায়ের শাস্তির জন্য কোনো অপরাধ না করেও দেশের বিভিন্ন কারাগারে বসবাস করছে অনেক শিশু।

অপরাধীদের সঙ্গে থাকায় এসব শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা।

অন্যদিকে, আইনজ্ঞরা বলছেন, কারাগারে বড় হওয়ায় লঙ্ঘিত হচ্ছে শিশুদের সাংবিধানিক অধিকার।  এসব শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য খুলনাসহ সারা দেশের সাতটি কারাগারে কাজ করছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

খুলনা কারাগারে ফৌজদারী অপরাধে অভিযুক্ত মায়েদের সঙ্গে বন্দি জীবনযাপন করছে নয়জন শিশু।  কোনো অপরাধ না করেও এসব শিশু মাসের পর মাস কাটাচ্ছে কারাগারে।  আবার অনেক শিশুর জন্মই এই কারাগারে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কারাগারে বন্দি ও অপরাধীদের সংস্পর্শে থাকায় শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম ফরিদুজ্জামান বলেন, "এখানে থাকতে সে নিজেকেও এক ধরনের অপরাধী ভাবতে শুরু করে। অনেকটা সময় তার নিজের ভিতরে যে মানবিক গুণাবলীর চর্চা, সেটা হয় না।  কাজেই আমাদের অনেক বেশি ঝুকিঁ রয়ে যায়।"

আইনজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীরা আইনের সুবিধা নিতে শিশুদের ব্যবহার করছে।  তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধী মায়ের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে এসব শিশুদের।

খুলনার বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মমিনুল ইসলাম বলেন, "শিশু অধিকার আইনই বলি, অথবা বাংলাদেশের সংবিধানই বলি, অথবা বাংলাদেশের অন্য কোনো আইন বলি, কোনো আইনেই কিন্তু শিশুরা জেলখানায় কোনো অবস্থায় থাকতে পারবে না।"

খুলনা জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, "৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আত্মীয়দের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে খুজেঁ তাদের বাচ্চা তাদের হেফাজতে দিয়ে দেয়াই নিয়ম। যদি সত্যিই কোনো গার্ডিয়ান না থাকে তাহলে তাদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটা আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।"

কারাগারে মায়ের সঙ্গে বসবাসরত এ ধরনের শিশুদের দৈনিক তিন ঘন্টা বিনোদনের সঙ্গে লেখাপড়া শেখানোর ব্যবস্থা করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অপরাজেয় বাংলাদেশ’র ডে কেয়ার সেন্টার।

খুলনা জেলা কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টারের শিক্ষিকা শাহেরজাদী সুলতান সোমা বলেন, "লেখাপড়ার ব্যবস্থা, তাছাড়া ওদেরকে একটু কালচারাল বিষয়গুলো দেখানো, শেখানো হয়।  তাদের জন্য খেলাধূলার সরঞ্জাম আছে কিছু, সেগুলো দিয়ে তারা খেলাধূলা করে কিছু সময়।"

শিশুদের অধিকার রক্ষায় ২০১৫ সালে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অপরাজেয় বাংলাদেশ পরীক্ষামুলকভাবে দেশের সাতটি কারাগারে চালু করেছে ডে-কেয়ার সেন্টার।

অপরাজেয় বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুব আলম প্রিন্স বলেন, "মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন করে শিশু আমরা পাই জেলখানা থেকে, যারা অপরাধী মায়ের সঙ্গে থাকে।"

এসব শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন-এমনই প্রত্যাশা মনোবিজ্ঞানী ও আইনজ্ঞদের।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ৩১শে অক্টোবর, ২০১৯
আপডেটঃ শনিবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:০৭


সর্বশেষ

আরও পড়ুন