• বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১
  • দুপুর ১২:২৩

জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে দেশের উত্তরাঞ্চল  

জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ঝুঁকিতে দেশের উত্তরাঞ্চল। স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে তাপমাত্রা, কমেছে বৃষ্টিপাত। নদী ভাঙন চলছে বছর জুড়ে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে বাড়ছে ভূমিহারা লোকের সংখ্যা। এছাড়া বড় ধরনের ক্ষতিতে পড়বে কৃষিও, যার প্রভাব পড়বে লাখো মানুষের জীবনমানের ওপর।  

বৃষ্টি নির্ভর আমনের চারা রোপণ এ বছর করতে হচ্ছে সম্পুরক সেচ দিয়ে। এখন পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ৬০ হাজার হেক্টর আমনের চারা রোপণ হয়েছে যার অর্ধেকই করতে হয়েছে সেচের মাধ্যমে। ফলে একদিকে ফসল উৎপাদনের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়েও থাকছে সংশয়।   

কৃষকরা জানায়, আগে বৃষ্টির পানিতে চাষ করতাম কিন্তু এবার তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় ঠিকমত কাজ করতে পারছি না। সেচের পানি দিয়ে চাষ করতে হচ্ছে এতে আমাদের অনেক খরচ হচ্ছে যা আমাদের পোষাচ্ছে না। জমিতে যে ধান হবে তা দিয়ে এই খরচ উঠানো কষ্ট হয়ে যাবে। 

গত বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিলো ৬৫০ মিলিমিটার। এ বছর বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৯৮ মিলিমিটার।অন্যদিকে, তাপমাত্রাও বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।যা কৃষির জন্য অশনি সংকেত বলছে আবহাওয়া অফিস।  

আবহাওয়া অফিস ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, কৃষিকাজ বা ফলনের জন্য যে সময় যে পরিমান বৃষ্টি হওয়া দরকার তা কিন্তু হচ্ছে না। এতে করে যে পরিমান ফলন হওয়ার কথা তা কিন্তু হচ্ছে না এবং কৃষকও কিন্তু আর্থিক সমস্যায় পড়ছে।

বছর কয়েক আগেও নদী ভাঙন ও বন্যার তীব্রতা দেখা যেত এক মৌসুমে। অথচ, এখন সারা বছর জুড়েই তিস্তা, বহ্মপুত্রসহ অনান্য নদীতে দেখা দিচ্ছে ভাঙন।  প্রতিবছর দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের হারাচ্ছে বাস্তুভিটা, আবার ফসলি জমিও বিলীন হচ্ছে নদী গর্ভে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষিনির্ভর প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।   

রিভারাইন পিপল বাংলাদেশের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, সারা বছর যখন গভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ কাজ চালানো হয় তখন ভূমির উপরের অংশের সাধারণ যে বৈশিষ্ট তা নষ্ট হয়ে যায়। এতে  এ অঞ্চল মরুকরনের একটা আশংকা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামীতে ক্ষতির মুখে পড়বে উত্তরাঞ্চলের আরও অনেক কৃষক এমন আশঙ্কা গবেষকদের।     

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৩ই আগস্ট, ২০২১


সর্বশেষ

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণঃ

আরও পড়ুন