• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০
  • সকাল ৫:২৮

নতুন জাতের ব্রি-৮১ ধান চাষে কৃষকের মুখে হাসি

নতুন জাতের ব্রি-৮১ ধান চাষে কৃষকের মুখে হাসি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাঠগুলোতে নতুন জাতের ব্রি-৮১ নতুন জাতের ধান চাষাবাদে কৃষকের মুখে হাসি দেখা গেছে। গত বছর পরিক্ষামূলক এ ধান চাষ করলেও চলতি বোরো মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে ২৮শ' হেক্টর জমিতে এই নতুন জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোরো ধানের ফলন ভাল হলেও ব্রি-৮১ ধান চাষে আগ্রহী কৃষকরা। প্রোটিন সমৃদ্ধ জাতের ধান চাষবাদ হচ্ছে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার মাঠগুলোতে। ভাল ফলনের আশায় বোরো মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করে আসছিলো কৃষকরা। তবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আগাম জাতের ব্রি-৮১ ধানের বীজ তুলে দিয়েছে কৃষকদের হাতে। যা কম সময়ে ভাল ফলন ও পুষ্টি বেশি। আগাম জাতের ধানের চাহিদাও সবসময় বাজারে বেশি হয়ে থাকে। এই জন্য আগাম জাতের ধান চাষ করতে উৎসাহী কৃষকরা।

কৃষক মাহবুবুল আমল বুলবুল জানান, গত বছর সামান্য জমিতে ব্রি-৮১ নতুন জাতের ধান লাগিয়ে ভাল ফলন হয়েছিলো। এইজন্য এবছর দুই-তিন বিঘা জমিতে এই ধান লাগিয়েছি এবং প্রতি বিঘায় ২৯ মণ করে ধান পাওয়া গেছে। আর নতুন জাতের ধানটি চিকন হওয়ায় অন্যান্য ধানের চেয়ে বিঘা প্রতি ৭/৮ মণ বেশি হয়ে থাকে। আর ধান লাগানো থেকে ১৪০ দিনের মধ্যে পেকে যায় এ ধানটি। আমি এরই মধ্যে ঘরে তুলেও ফেলেছি।

আরেক কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, আগাম জাতের এই ধান চাষ করে একই সাথে কয়েকটি ক্রিয়া ফসল করা যাবে। আগাম ব্রি-৮১ জাতের ধানে কোন ধরণে চীটা এবং পোকার আক্রমণ চোখে পড়েনি। আর এই নতুন জাতের ধান কাটার পরে ওই জমিতে আউশ ধান লাগানো সম্ভব। আর আউশ কাটার পরপরই রবি শস্য আলু, ভুট্টা, সরিষা ও আখ চাষবাদ করা যাবে। এই জন্য আমার নতুন জাতের ধানটি আগামী বছর আরো চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, জেলায় গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকজন কৃষকের মাঝে ব্রি-৮১ নতুন জাতের ধান বীজ দেয়া হয়। আর তা ভালো ফলনও পাওয়া যায়। এই থেকে কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়তে থাকে। এখন থেকে এ ধানের বীজ পাওয়ার জন্য অনেক কৃষক নিবন্ধন করেছে।

তিনি আরো বলেন, এবার উপজেলায় ২৬শ হেক্টর জমিতে এ জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়। ফলন প্রতি বিঘায় গড়ে ২৯ মণ। অন্য জাতের ধানের তুলনায় ৭/৮ মণ বেশি ধান পাওয়া যায়। যার বিঘাপ্রতি উৎপাদিত ধান থেকে বাড়তি দাম ৫-৬ হাজার টাকা। সেই হিসেবে এবার বাড়তি উৎপাদন হবে ৬ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন। আনুমানিক ১০ কোটি টাকা বাড়তি আয় করবে এই উপজেলার প্রায় দুই হাজার বোরোচাষি কৃষক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম জানান, আগামী বছর বোরো মৌসুমে অন্যান্য ধানের সাথে ব্রি-৮১ জাতের ধানটি ৪০ থেকে ৫০ ভাগ সম্প্রসারণ করা হবে। আর এ জাতের ধান জেলার জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী। নতুন জাতের ধান চাষ করার জন্য কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং এর ব্যবস্থাও করার কথাও বলেন তিনি।

জিরা হাইব্রিট ধান থেকে বীজ না হওয়ায় ব্রি-৮১ জাতের নতুন ধান কৃষকদের মাঝে চাষাবাদ করানো হচ্ছে। যাতে বীজ ও ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ জাতের ধান থেকে প্রতি বিঘায় ২৮-২৯ মণ ধান পাওয়া যাবে। উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষক যাতে বীজ থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এ জাতে ধান আবিস্কার করা হয়েছে। কৃষকরা উৎপাদন ও দামের দিক থেকে লাভবান হবেন। আর ভোক্তা যারা তারাও লাভবান হবেন। মিনিকেটের মতো অনেক সরু চাল বাজারে পাওয়া যায়। সেই চালগুলোকে মেশিনে দিয়ে সরু করে বাজারজাত করা হয়ে থেকে। কিন্তু ব্রি-৮১ নতুন জাতের চাল জন্ম থেকে সরু ও চিকন। মিনিকেট চালের বিপরীতে এই চাল খেতে পারবেন ভোক্তা পর্যায়ে মানুষগুলো। আর ধান থেকে যে চাল উৎপাদন হবে এতে প্রোটিন থেকেই যাবে। মেশিনে ছাটায় করা চালে থাকবে না। এইজন্য এ নতুন জাতের ধানের দিন দিন বাজারে চাহিদা বেড়েই চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার শুক্রবাড়ি মাঠে ব্রি-৮১ ধান কর্তন করার সময় এ ধরনের কথা বললেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ শাহজাহান কবির।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) রাজশাহীর প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.আমিনুল ইসলাম ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন-অর-রশিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম, গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন, চৌডালা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম ও আওয়াল হোসেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজম ও মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা।

ডেস্ক
জহুরুল ইসলাম জহির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৬ই মে, ২০২০
আপডেটঃ শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ বিকাল ০৪:১৭


সর্বশেষ

আরও পড়ুন