• শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১
  • সকাল ৭:২৪
শিশু ধর্ষণ রিপোর্টে অসামঞ্জস্যতা

'ভুল বুঝানোর চেষ্টা করবেন না, মোবাইলে সব জানা যায়'

'ভুল বুঝানোর চেষ্টা করবেন না, মোবাইলে সব জানা যায়'
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর আলাদা তিনটি মেডিক্যাল রিপোর্ট ও একটি ছাড়পত্রে অসামঞ্জস্যতার ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপারসহ ১২ কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানিতে তারা উপস্থিত হন।

উপস্থিত হওয়া ১২ কর্মকর্তা হলেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. একরাম উল্লাহ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আরিফুল হক, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. একরামুল রেজা, ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ডা. ফাহমিদা আক্তার, ডা. তোফায়েল হক, ডা. ফরিদা ইয়াসমিন এবং নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার, ডা. তাসনিম তামান্না ও ডা. মো. শফিকুল ইসলাম।

এসময়, ধর্ষণের রিপোর্টে অসঙ্গতির জন্য এসপি, সিভিল সার্জন, ডাক্তারসহ ১২ জন দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আর শিশুকে ধষর্ণের মামলায় সিভিল সার্জনসহ ১০ ডাক্তারকে সর্তক করে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট। তবে আদালত প্রয়োজন মনে করলে, তারা আদালতে আসতে বাধ্য থাকবেন বলেও জানানো হয়। সবাইকে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভুল আর না হয় সতর্ক করেন হাইকোর্ট। আর, পরবর্তী শুনানি ১১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া, শিশু ধর্ষণের রিপোর্টে অসঙ্গতি নিয়ে আদালতে এক ডাক্তারের ভুল ব্যাখ্যায় ১০ ডাক্তারের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, এখন আর মানুষকে ভুল বুঝানোর চেষ্টা করবেন না, পকেটের মোবাইল বের করে সব জানা যায়।  

৯/১ ধারায় এই মামলা কেন হলো প্রশ্ন করে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্লার্ক দিয়ে করছেন মেডিক্যাল রিপোর্ট, জীবন তাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে ডাক্তাররা ব্যবসা করতে নেমে যান। এ আইনে ছেলে শিশুটির মৃত্যুদণ্ড হতে পারতো। এ ঘটনায় সব দোষ ডাক্তারদের।

তাছাড়া তিনটি সার্টিফিকেটে অনেক বানান ভুলের জন্য উষ্মা প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। হাসপাতালে ধর্ষণের স্বীকার শিশু ও ছেলেটির ফর্মে ডাক্তারি বিভিন্ন টার্ম ও ভুল ত্রুটিপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, ধর্ষণ নিয়ে আলোড়ন চলছে, আপনারাও ফায়দা নিবেন, মজা পেয়ে গেছেন, ছেলেটাকে ধর্ষক বানাবেন।এসময় ব্রাক্ষণবাড়িযা জেলা সহিংসতাপূর্ণ এলাকা, ধর্ষণের নামেও অনেক মিথ্যা মামলা হয় বলে কোর্টকে জানান এসপি। এসময় এ ধরনের ভুল আর হবে না বলেন তিনি।উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি এ ঘটনায় সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপারসহ ১২ জনকে তলব করেন হাইকোর্ট।
ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১


সর্বশেষ

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণঃ

আরও পড়ুন