• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
  • রাত ৯:৩৫

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিতর্ক

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিতর্ক

বিএনপিকে নিয়ে গড়ে তোলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির অন্যতম নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। দুই দফা সংলাপে এই সরকারের রূপরেখা নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তাদের। কিন্তু তার কোনও সুরাহা হয়নি। তার ওপর সংবিধান মেনে নির্বাচন করতে তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, সংবিধানের মধ্যে থেকেই কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে সরকার?

সংবিধানের দোহাই দিয়ে নয়, সব রাজনৈতিক দলকে আস্থায় এনেই নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং অধ্যাপক আসিফ নজরুল। আর ব্যরিস্টার আমির উল ইসলাম এবং সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ মনে করেন সংবিধানের মধ্যে থেকেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন,  ‘ নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে বিরোধীদলকে সমান সুযোগ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সরকারকে দায়িত্বশীল হতে হবে। এখানে আইনের বা সংবিধানের বাধা রয়েছে, এইসব অজুহাত দেখিয়ে লাভ নেই। সংবিধান পরিবর্তনের শক্তি ও ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। সংবিধানের মধ্যেই সংবিধান পরিবর্তনের অনেক সুযোগ রয়েছে।’

এদিকে, সুপ্রিমকোর্ট সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সংসদ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা যায়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে মূল দাবি, সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে, সেটা সংবিধানের মধ্য থেকেই সংসদ ভেঙ্গে দেয়া যাবে। ঐক্যফ্রন্টের মতামত অনুযায়ী পাঁচজনকে যদি নেয়া হয় এবং তাদের মধ্যে থেকে যদি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দেয়া হয়, তাহলে সংবিধানও সংশোধন করতে হল না।’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম এবং সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ মনে করেন, সরকার চাইলেই সংবিধানের বাইরে যেতে পারে না।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে তারা কি চাইছেন, সে বিষয়টা আলাদা করা। সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিত ছিল, এখনও সেটা উচিত, সেটা হলো যে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাটা তুলে ধরা। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করলে বাকি সমস্যাগুলো আর সমস্যা থাকে না।’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জানান, ‘অন্য কাউকে যদি নির্বাচনের সময় সরকার গঠন করার জন্য ক্ষমতা দেয়া হয়, সেটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। কাজেই এটা কোনও অবস্থাতেই সম্ভব না। আর এর সুযোগ নেই এবং প্রয়োজনীয়তাও নেই। এছাড়া যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো আমার মনে হয় নির্বাচনকে বানচাল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্যই।’

এদিকে, সমঝোতা ছাড়াই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ৮ই নভেম্বর, ২০১৮
আপডেটঃ বুধবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ০১:৪০


সর্বশেষ

আরও পড়ুন