ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের জেরে দুই দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর পাঁচটি বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে লাভা ও ছাই রাজধানী জাকার্তা এবং ল্যাম্পুং প্রদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহান্তজুড়ে এটি সক্রিয় থাকায় জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রবিবার সকালে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয়। মঙ্গলবার রাত ১২টা ৩০ মিনিটে তা আবার চালু হয়। দীর্ঘ সময় বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় প্রায় ৩ হাজার ফ্লাইট ব্যাহত হয় এবং ৩ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি যাত্রী আটকা পড়েন।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সোমবার জাকার্তা বিমানবন্দরে টিকিটের অর্থ ফেরত বা ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি জানতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। জাকার্তাগামী ফিন্না নামের এক যাত্রী ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা এড়াতে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন বদল করে সোমবার ভোরে গন্তব্যে পৌঁছান। অন্যদিকে, বালিতে ছুটি কাটানো মালয়েশিয়ার এক নবদম্পতি জানান, তাদের পরবর্তী ফ্লাইটের সময় দেওয়া হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বর, যার ফলে তারা চরম আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সংরক্ষণবাদী সংস্থা ‘সেভ দ্য রাইনো ইন্টারন্যাশনাল’-এর কর্মী জো শ জানান, তারা উজুং কুলন ন্যাশনাল পার্কে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামীতে আরও অগ্ন্যুৎপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির ছাই জাভা অংশে ৬ হাজার মিটার এবং সুমাত্রা অংশে ১৫ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে। সবশেষ রোববার রাত ৮টা ২৩ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। পরিবহন মন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর ছাইয়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তবে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/পিআরএএন