অফিসের কাজের ফাঁকে কিংবা একটু ক্লান্তি বোধ হলে শক্তি বাড়াতে এবং শরীরকে সতেজ করে তুলতে অনেকেই কফি পান করেন। অনেকের আবার দিনে পাঁচ-ছয় কাপ কফি সেবনের অভ্যাস রয়েছে। কফিপ্রেমী হলে তো দিনে কত কাপ কফি খেয়ে ফেলেন তার কোনো হিসাব থাকে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি শরীর তরতাজা করে তুলতে পারে ঠিকই, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কফি সেবন বিপদ ডেকে আনে। কফি পানে যেমন নানা উপকারিতা পাওয়া যায় ঠিক তেমনি অতিরিক্ত কফি সেবনে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
কফি যে শরীরের জন্য পুরোপুরি ক্ষতিকর এমন মোটেই বলা যাবে না। মানসিক চাপ দূরে রাখা থেকে শুরু করে ওজন কমানো পর্যন্ত— কফির গুণ নিয়ে বলা বাহুল্য। চিকিৎসকদের মতে, যত ইচ্ছে তত কফি খাওয়া যায় না।
কফির প্রধান উপাদান হলো ক্যাফেইন। কফির উপকারিতা পেতে, সঠিক পরিমাণে খেতে হবে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কফি খেতে পারেন। দিনে ৪-৫ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত কফি পানে যেসব ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারেন-
উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয় : পরিমিত মাত্রায় কফির সেবন, উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কফির সেবন, ঠিক উল্টো প্রভাব ফেলে, অর্থাৎ উদ্বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে। অত্যধিক পরিমাণে কফি পান করার ফলে উদ্বেগ বাড়তে পারে। এর ফলে বিরক্তি বোধও বাড়তে পারে।
অনিদ্রা : অনিদ্রা অলসতা প্রতিরোধ করার সব থেকে কার্যকর উপায় হল কফি পান। তবে অতিরিক্ত ক্যাফিন সেবন, অনিদ্রার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে রাতের দিকে কফি পান করলে, ঘুমের সমস্যা হতে পারে। যার ফলে অনিদ্রার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
পেটের সমস্যা দেখা দেয় : অনেকেই সকালবেলা কফি খেতে পছন্দ করেন। কফি গ্যাস্ট্রিন নামক একটি হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করে, যা কোলনের কার্যকলাপে আরও গতি বৃদ্ধি করে। তবে অতিরিক্ত কফির সেবনের ফলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।
হৃদযন্ত্রের ক্ষতি : ক্যাফেইনের প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্রেও। অতিরিক্ত কফি পান শরীরে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে, যা কারও হৃদস্পন্দনকে আরও দ্রুততর করতে পারে। ক্যাফেইনের উচ্চ মাত্রায় গ্ৰহণ হৃদস্পন্দনের দ্রুততর করে দেওয়ার ফলে, বিরক্তি ভাব কিংবা উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।
রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে : উচ্চ রক্তচাপ সময়ের সাথে সাথে ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ বাঁধাপ্রাপ্ত হতে পারে। এর ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারও যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে থাকে, তবে ক্যাফেইনের গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্তক থাকা উচিত। কারণ এটি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মাথাব্যথা : মাঝে মাঝে পর্যাপ্ত মাত্রায় ক্যাফেইন সেবনে মাথাব্যথার উপসর্গগুলি দূর হয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে মাথা যন্ত্রণা এবং মাইগ্রেনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ওজন বৃদ্ধি করে : যদি প্রতিদিন দুধ, ক্রিম এবং চিনি দিয়ে কয়েক কাপ কফি সেবন করা হয় তাহলে ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। যার ফলে খুব সহজেই ওজন বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। এমনকি অতিরিক্ত কফি সেবনের ফলে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়, যা ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী হতে পারে।