দিল্লিতে গত ২০ দিন ধরে অনশনরত ভারতীয় সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে আদালতের নির্দেশে তাকে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ৫৯ বছর বয়সী এই শিক্ষাবিদ শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করছিলেন। অনশনের ২১তম দিনে এসে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে আদালতের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।
প্রতিবাদকারীরা সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতের সংসদ ভবনের দিকে একটি পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছিলেন। ওয়াংচুক এই প্রচণ্ড গরমে শুধু লবণ ও পানি পান করে অনশন করছিলেন, যার ফলে তার ওজন ৯ কেজির বেশি কমে গিয়েছিল এবং তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এখন তার জায়গায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন এবং সেইসাথে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন। বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিজিৎ বলেছেন যে, সকালে তিনি ফ্রেশ হওয়ার জন্য এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন, তখন পুলিশ এসে তাকে সেখান থেকে বের হতে বাঁধা দেয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রতিবাদের স্থান থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায় যে, স্থানীয় সময় সকাল ৭:৩০ টায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য এসেছিল ওয়াংচুক যে মঞ্চে শুয়ে ছিলেন সেখানে হঠাৎ , যা সেখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে এবং বাঁধা দিতে আসা প্রতিবাদকারীদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাকে মঞ্চ থেকে সরানোর আগে বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় এবং কয়েক মিনিট পরেই একটি অ্যাম্বুলেন্সকে দ্রুত বেগে চলে যেতে দেখা যায়।
সমাজকর্মীর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে জানান যে তিনি সফদরজং হাসপাতালে আছেন, যেখানে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি লেখেন, আমার, তার পরিবার এবং গত ২০ দিন ধরে তার স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা ডাক্তারদের সম্মতি ছাড়া তাকে মুখে বা শিরায় কোনো কিছু দেওয়া উচিত নয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা করছেন এবং শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস নোট জারি করা হবে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শচীন শর্মা বলেন, সোনম ওয়াংচুককে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য একটি সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন। তিনি বৃহস্পতিবারের দিল্লি হাইকোর্টের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করছিলেন, যেখানে ফেডারেল সরকারকে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ওয়াংচুক অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও অনশন ভাঙতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং সোমবার (২০ জুলাই) সংসদ পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। কয়েকদিন আগে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদস্থলে জড়ো হওয়া জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, আমি বাইরে থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছি, কিন্তু ভেতর থেকে আমি শক্তিশালী।
তার এই বক্তব্যকে উল্লাস ও করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা একসাথে শান্তিপূর্নভাবে সংসদের দিকে পদযাত্রা করব এবং গণতন্ত্রের বেদিতে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরব। এরপর তিনি রসিকতা করে বলেন যে, পদযাত্রার আগে তার মৃত্যু হলে তার ভূত সেই পদযাত্রায় যোগ দেবে। সমাজকর্মীর পক্ষে এখন আর ওই পদযাত্রায় অংশ নেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করা হলেও দিপকে বলেছেন যে সোমবারের (২০ জুলাই) পদযাত্রা পরিকল্পনামাফিকই অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, তারা যদি মনে করে যে ওয়াংচুককে সরিয়ে নিলে এই আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে, তবে তারা ভুল করছে আমরা এখানেই থাকব এবং ২০শে জুলাই সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করব।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/আরপিডি