ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। রবিবার (১০ মে) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই শান্তি আলোচনা ঘিরে বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ‘ফক্স নিউজ সানডে’-কে জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘অত্যন্ত স্পষ্ট রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তেহরান সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শান্তি চুক্তির এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বের মোট তেল–গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে, তাদের জাহাজ ওই প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর তাদের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। এমনকি গত শুক্রবার এই অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকালে ইরানি পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এই সংঘাত ও অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ ডলার বেশি। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ৪ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ৩ ডলারের চেয়েও কম ছিল।
ডিবিসি/এফএইচআর