প্রাণি খাদ্য উৎপাদনকারীদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বিএসটিআই-দুটি প্রতিষ্ঠান থেকেই অনুমোদন এবং মান সনদ নিতে হয়। প্রতিষ্ঠান দুটিও একই পদ্ধতিতে মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ফিড মিলারদের ভোগান্তি বাড়ছে, আর খরচ বাড়ছে ফিডের। যার চুড়ান্ত দায় নিতে হচ্ছে খামারিদের। যদিও বিষয়টি যে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলেই হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোল্ট্রি ফিডের কাঁচামাল আমদানির সময় অনুমতি নিতে হয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে। আইন বলছে, কারখানার নিবন্ধন, ফিডের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ফিড মানহীন হলে বাজেয়াপ্ত করা, বিক্রয়, বিতরণ এমনকি রপ্তানির অনুমতি দেয়ারও এখতিয়ার একই প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু এই ফিডেরই মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে যুক্ত সরকারের আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, বিএসটিআই।
বাংলাদেশ ফিড মিল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আহসানুজ্জামান বলেন, "দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। একই জিনিসের দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকলে সেই সেক্টরটা ভালভাবে চলতে পারে না।”
জটিলতা নিরসনে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর পদক্ষেপ নিলেও তার প্রতিকার মিলছেনা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. এ. বি. এম. খালেদুজ্জামান বলেন, "খাদ্যের গুনগত মান নির্ধারণের এখতিয়ার মৎস খাদ্য, প্রাণী খাদ্য আইন প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরকেই দিয়েছে। বিএসটিআই এর একটি পল্ট্রি স্টান্ডার্ড আছে। আমাদের বিধিমালা ও তাদের স্টান্ডার্ড এর স্পেসিফিকেশন একই। আমরা চিঠি দিচ্ছি, একই কাজে অন্তত আমার খামারিরা যেন দুই বার হয়রানি না হয়।"
আর বিএসটিআই বলছে, পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের একমাত্র এখতিয়ার তাদেরই। ফিডমিলগুলোকে বাধ্যতামুলক সার্টিফিকেট নিতে হয় বিএসটিআই থেকেই।
বিএসটিআই'র উপ-পরিচালক (সিএম) মোহাম্মদ রিয়াজুল হক বলেন, "সরকার কতৃক বিএসটিআই এর মান সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, আমরা শুধুমাত্র ‘ফিনিসড প্রোডাক্ট’ এর মান সনদ দেব। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ‘কোয়ালিটি সনদ’ দিতে পারবে না।"
আইনি দিক থেকে একই খাতে দুটি ভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারি প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে কিনা অথবা দুটি ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি খাত পরিচালিত হতে পারে কিনা সেই প্রশ্ন উঠছে বারবার।