শিক্ষা

অনুমোদন ছাড়াই দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে আইন বিভাগে ভর্তি!

যশোর প্রতিবেদক

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ২৩শে জানুয়ারী ২০২১ ০৬:৩৮:১৮ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই আইন বিভাগের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে চার বছর মেয়াদী অনার্স এবং দুই বছর মেয়াদী মাস্টার্স শাখায় ভর্তি করেছে বগুড়ার বেসরকারি পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিয়মিত পাঠদানসহ সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পর তাদের একাংশ অংশগ্রহণ করেছেন চূড়ান্ত পর্ব সমাপনী পরীক্ষায়। আর বাকিদের সব শেষ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার আগেই তারা জানতে পারে আইন বিভাগের কোন অনুমোদন নেই বিশ্ববিদ্যালয়টির, তাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সে শাখার সব কার্যক্রম।

অ্যাডভোকেট হবার স্বপ্ন নিয়ে সাদিয়া ও তার ভাই একসাথে ভর্তি হয়েছিলো পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির আইন বিভাগে। চার বছর পড়ালেখা করার পর তারা জানতে পারে আইন বিভাগের কোন অনুমোদনই নেই বিশ্ববিদ্যালয়টির। তাদের মতোই দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বপ্নই শুধু ভাঙেনি জীবন থেকে হারিয়ে গেছে চারটি বছরও।

২০১৭ সালে সুপ্রিম কোটের্র এক নির্দেশনায় কয়েকটি শর্ত জারি করে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগ চালু করতে লাগবে বার কাউন্সিলের ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। বার কাউন্সিল সার্টিফিকেট দিলেই ইউজিসি দিতে পারবে অনুমোদন।

কিন্তু ২০১৯ সালেও বগুড়ার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এলএলবি অনার্স এবং মাস্টার্স এ ভর্তির বিজ্ঞাপন প্রচার করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ইউজিসির অনুমোদন আছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসেই অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হয় অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষাসহ সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পর তারা পাচ্ছে না সনদ। অনেকেই পায়নি চূড়ান্ত পর্ব পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ। পাবলিক বিশ্বদ্যিালয় থেকে অনার্স শেষ করে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২ বছর মেয়াদি মাস্টার্স করে প্রতারিত হয়েছেন অনেক আইনজীবিও।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুমোদনের আবেদন জমা দেয়ার পরই শুরু করা হয় ভর্তি কার্যক্রম। হঠাৎ যোগ হওয়া নতুন নির্দেশনার পর ২০১৭ সাল থেকে কয়েক দফা আবেদন করেও বার কাউন্সিলের কোন সাড়া পাননি তারা।

২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আইন বিভাগে পাঠদান কার্যক্রম, পর্যবেক্ষণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোন নীতিমালা অনুসরণ করা হবে সেটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান কাজি মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ হিরু। বার কাউন্সিলের অনুমোদন পাওয়ার আগে আইন বিভাগের কোন কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ইউজিসি বলছে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে ভর্তি কার্যক্রম চালাতে পারেনা। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামান।

চার বছর নিয়মিত পড়ালেখা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর প্রতারনার স্বীকার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তুলে ধরেন নানা অভিযোগ। কেবল বগুড়ার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটিই নয় দেশের আরো কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের কোন অনুমোদন না থাকলেও ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন