অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আজ (২৯ এপ্রিল) বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে তড়িঘড়ি করে সই হওয়া এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন ধারা রয়েছে।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি যখন এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তখন দেশের সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংকগুলো আপত্তি জানিয়েছিল। একটি অনির্বাচিত সরকার এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করতে পারে না বলে তখন মত দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানি এবং বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত এই বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই বিতর্কিত চুক্তিটি করা হয়েছিল।
রুমিন ফারহানা সংসদকে মনে করিয়ে দেন যে, চুক্তির শর্তানুযায়ী সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এটি বাতিল করার সুযোগ রাখে। তাই জনস্বার্থে চুক্তিটি সংসদে এনে আলোচনার দাবি জানান তিনি। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার এই বক্তব্যকে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ হিসেবে গ্রহণ করেননি।
স্পিকার জানান, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ ধারা অনুযায়ী এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না কারণ এটি চলমান কোনো বিষয় নয়। তিনি সংসদ সদস্যকে যথাযথ নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করার নির্দেশ দেন। স্পিকারের অসম্মতি সত্ত্বেও রুমিন ফারহানা পুনরায় এক মিনিট সময় নিয়ে চুক্তিটি বাতিলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যদিও শেষ পর্যন্ত স্পিকার একে আদেশ হিসেবে গ্রহণ করতে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ডিবিসি/টিবিএ