ঝালকাঠি আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে অন্য নারীর পরিচয়ে পাসপোর্ট করার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে গিয়ে দুই নারী আটক হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের আটক করে পুলিশ। পাসপোর্ট কার্যালয় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল।
আটক দুজন হলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন ব্রিজ এলাকার রুহি আক্তার ও বরিশাল সদর উপজেলার ভাটিখানা এলাকার জাফরিন আক্তার।
পাসপোর্ট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম রোড এলাকার শিল্পী আক্তারের পরিচয়ে রুহি আক্তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে যান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাঁর কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই করা হয়। এ সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে তাঁর ছবি ও অন্যান্য তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে রুহি আক্তার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই বলে জানান। পাসপোর্ট করার উদ্দেশ্যে তিনি প্রায় নয় মাস ধরে ঝালকাঠির নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের নাগরিকত্বের বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে রুহি আক্তার ও তাঁর সঙ্গে থাকা জাফরিন আক্তারকে আটক করে।
ঝালকাঠি আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শফিউল্লাহ বলেন, দুই নারী পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। নাম-ঠিকানা যাচাই করতে গেলে তাঁরা সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে ছবি মিলিয়ে দেখার সময়ও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কাগজপত্রও তাঁরা দেখাতে পারেননি।
রুহি আক্তার নিজেকে রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তিনি রোহিঙ্গা কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন বলেন, পাসপোর্ট কার্যালয়ে ঝামেলার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দুই নারীকে আটক করে। তাঁদের সঙ্গে থাকা কাগজপত্রের তথ্যের সঙ্গে কথাবার্তার মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আইনগতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাঁদের একজন পাকিস্তানি এক যুবককে বিয়ে করেছেন। এ কারণে তিনি মাঝে মাঝে উর্দু ভাষায় কথা বলছিলেন। তবে এসব তথ্যও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও জালিয়াতির চেষ্টা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিবিসি/ আরএফই