গত মে মাসে চালানো 'অপারেশন সিন্দূর'-এ পাকিস্তানের অন্তত চার থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে সম্ভবত এফ-১৬ রয়েছে, ধ্বংস হয়েছে বলে প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যার পাশাপাশি, এই প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের মডেলের কথা উল্লেখ করল ভারত।
৯৩তম বায়ুসেনা দিবস উদযাপনে বক্তব্য রাখার সময় এয়ার চিফ মার্শাল সিং এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ৬ ও ৭ই মে-র মধ্যবর্তী রাতে ভারত যে ব্যাপক আন্তঃসীমান্ত হামলা চালায়, তখন বিমানগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাটিতে ছিল।
এয়ার চিফ মার্শাল সিং পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বলেন, এই হামলায় পাকিস্তানের প্রচুর সংখ্যক এয়ারফিল্ড এবং বিপুল সংখ্যক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, কমপক্ষে চারটি রাডার, দুটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার এবং দুটি এয়ারফিল্ডের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও তিনটি ভিন্ন স্টেশনের তিনটি হ্যাঙ্গারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: ‘আমরা একটি সি-১৩০ ক্লাসের বিমান... এবং কমপক্ষে ৪ থেকে ৫টি যুদ্ধবিমান, সম্ভবত এফ-১৬, ধ্বংসের প্রমাণ পেয়েছি, কারণ ওই জায়গাটি ছিল এফ-১৬-এর, যা সেই সময় রক্ষণাবেক্ষণের অধীনে ছিল।’
তিনি আরও জানান, একটি এসএএম (Surface-to-Air Missile) সিস্টেমও ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার একটি হামলায় হয় একটি এইডব্লিউঅ্যান্ডসি (AEW&C) বা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান এবং তার সাথে এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ ক্লাসের পাঁচটি উচ্চ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে তিনি কেবল 'কমপক্ষে পাঁচটি ফাইটার এবং একটি বড় বিমান' ধ্বংসের কথা বললেও, তাদের মডেল উল্লেখ করেননি।
যদিও তিনি ভারতীয় পক্ষের কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করেননি, তবে অতীতে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান সহ অন্য কর্মকর্তারা সংঘাতে আইএএফ-এরও বিমান ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি লোকসভায় দাবি করেছেন, অপারেশন সফল হয়েছিল এবং ভারতীয় সৈন্যদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ডিবিসি/এনএসএফ