স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কেপ ভার্দেকে ড্র এনে দেওয়া গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাচ্ছেন। আগামী রবিবার উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই ছেলের সঙ্গে মিয়ামিতে দেখা হতে যাচ্ছে তার।
গত সোমবার স্পেনের বিপক্ষে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাচসেরা হন ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার উচ্চমূল্য ও জটিলতার কারণে তার মা স্টেডিয়ামে বসে ছেলের এই বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখতে পারেননি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে।
সাও ভিসেন্তে নিজ বাসভবন থেকে বিবিসিকে ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিদা এভরা তার মিয়ামি যাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন:
"আমি খুবই আনন্দিত। সবকিছু খুব দ্রুত ঘটছে, তবে আমি সত্যিই অনেক খুশি। ঈশ্বর চাইলে আমি আমার ছেলেকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখব। আমি তাকে সমর্থন ও সাহস জোগাতে সেখানে যাচ্ছি। ম্যাচের পর আমি তাকে জড়িয়ে ধরব।"
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী যে পাঁচটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য প্রায় ১১,০০০ পাউন্ড রিফান্ডেবল ফি জমা দিতে হয়, কেপ ভার্দে তার মধ্যে একটি। মে মাসে ম্যাচ টিকিটধারীদের এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও, ভোজিনহার মায়ের ক্ষেত্রে তা সময়মতো হয়ে ওঠেনি।
পরবর্তীতে মার্কিন হাউস ডেমোক্রেটিক লিডার হাকিম জেফ্রিস হস্তক্ষেপ করেন এবং জানান যে, ভোজিনহার মায়ের ভিসা ফি মওকুফ করা হয়েছে এবং ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি উল্লেখ করেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে কথা বলেছেন এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অনুরোধ করেছেন যেন ভোজিনহার মা কেপ ভার্দের পরবর্তী ম্যাচ দেখতে পারেন। তিনি আরও জানান, ফি মওকুফ করে মা ও ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মিয়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই কাজের জন্য তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট, কেপ ভার্দে সরকার এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তাও পরবর্তীতে নিশ্চিত করেন যে, প্রেইয়াতে তাদের ভিসা দল ভোজিনহার মায়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। স্পেনের বিপক্ষে বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের পর রাতারাতি তারকা বনে গেছেন ভোজিনহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লাখ লাখ নতুন অনুসারী যুক্ত হয়েছে। পর্তুগালের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব শ্যাভেসের হয়ে খেলা এই গোলরক্ষক জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত ৯১টি ম্যাচ খেলেছেন।
"আমি কেঁদেছিলাম কারণ আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি, যারা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তারা আমার জীবনের সবকিছু ছিলেন। পাশাপাশি আমার মায়ের জন্যও খারাপ লাগছিল। ভিসার অতিরিক্ত খরচের কারণে আমরা সময়মতো ব্যবস্থা করতে পারিনি। আমি চেয়েছিলাম তিনি এখানে থাকুন।"
৪০ বছর ১২ দিন বয়সে ভোজিনহা কোনো দেশের অভিষেক বিশ্বকাপ ম্যাচে অংশ নেওয়া সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
২৫ বছর বয়সে ২০১২ সালে পেশাদার ফুটবল শুরু করা ভোজিনহা একসময় জাতীয় দল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবলেও, কেবল বিশ্বকাপের এই স্বপ্নের কারণেই খেলা চালিয়ে গেছেন বলে জানান।
গ্রুপ 'এইচ'-এর লড়াইয়ে কেপ ভার্দে আগামী ২১ জুন উরুগুয়ে এবং ২৭ জুন সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে। গ্যালারিতে মায়ের উপস্থিতি নিশ্চয়ই ভোজিনহাকে আরও দারুণ কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/পিআরএএন