ভুয়া রিটার্ন টিকিটের প্রতারণায় পড়ে সৌদি আরবে আটকে পড়া ৩৩ জন বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী অবশেষে দেশে ফিরছেন। জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে তাদের দ্রুত দেশে ফেরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) জেদ্দার কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আটকে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে তাদের হোটেলে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এই ওমরাহযাত্রীরা গত ২৪ মার্চ 'মাস্ক হজ গ্রুপ' নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার জন্য তাদের ৫ এপ্রিলের ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের রিটার্ন টিকিট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তারা জানতে পারেন, তাদের দেওয়া টিকিটগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া এবং অনলাইনে বিমানের কোনো আসন তাদের নামে বরাদ্দ নেই। এই প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীরা জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিসে কাউন্সেলরের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি গণমাধ্যমে, বিশেষ করে ডিবিসি নিউজের সৌদি আরব প্রতিনিধি এ আর নোমানের মাধ্যমে উঠে এলে তৎপর হয় প্রশাসন। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইনের (কায়কোবাদ) সরাসরি নির্দেশে জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন দ্রুত পদক্ষেপ নেন। বুধবার তিনি আটকে পড়া যাত্রীদের হোটেলে গিয়ে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। এ সময় প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সৈয়দা নাহিদা হাবিবা, জেদ্দা বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সেলর মো. কামরুল ইসলাম এবং কনস্যুলার এ এস এম সায়েম।
ওমরাহযাত্রীদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করে কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভুয়া টিকিট দিয়ে যাত্রীদের বিপদে ফেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গমনের ক্ষেত্রে অথবা বহির্বিশ্বের যেকোনো দেশে ভ্রমণের আগে যাচাই-বাছাই করে অবশ্যই বৈধ ও সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তা নেওয়ার জন্য সবার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান তিনি।
ডিবিসি/পিআরএএন