নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারী বাকপ্রতিবন্ধী অসহায় বৃদ্ধা ‘বুবি’র প্রকৃত পরিচয় মিলেছে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি এলাকায় ‘বুবি’ নামে পরিচিত থাকলেও, মৃত্যুর পর জানা গেছে তার আসল নাম ওয়াহিদা বেগম। তিনি বগুড়া জেলার গাবতলী থানার নারুয়ামালা ডাকঘরের ঘোন শাখাটিয়া গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের মেয়ে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রায়পুরায় নিহত বৃদ্ধার কবর জিয়ারত করতে এসে তার ছোট বোনের জামাতা সৈকত এই পরিচয় নিশ্চিতের দাবি করেন। তিনি জানান, ফেসবুকে এক বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে নির্যাতন করে হত্যা ও জমানো টাকা লুটের একটি পোস্ট তার নজরে আসে। পরে তিনি ছবিটি তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে দেখালে তিনি নিজের খালাকে শনাক্ত করেন। এরপর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও নিশ্চিত হন যে, নিহত ওই নারীই তাদের দীর্ঘদিনের নিখোঁজ স্বজন ওয়াহিদা বেগম। দীর্ঘদিন পর স্বজনের সন্ধান পেয়ে তারা স্থানীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নির্মম এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওয়াহিদা বেগমের বিয়ে হলেও তার স্বামী অনেক আগেই মারা যান। তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নিলেও কয়েকদিনের মাথায় শিশুটিও মারা যায়। পরিবারে তারা চার ভাই ও চার বোন ছিলেন। এর মধ্যে দুই ভাই আগেই মারা গেছেন এবং ওয়াহিদা বেগমের মৃত্যুর পর বর্তমানে তার তিন বোন জীবিত রয়েছেন।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, শনিবার দুপুরে ওই বৃদ্ধার আত্মীয় দাবি করে দুজন একটি পুরোনো ছবি নিয়ে আসেন এবং তার কবর জিয়ারত করেন। মেথিকান্দা রেল স্টেশনের মাস্টার তাদের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, যাতে যেকোনো প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নির্মম এই নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিবিসি/পিআরএএন