আন্তর্জাতিক

অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য না জানালে সাহায্য বন্ধ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলো যদি তাদের বিভিন্ন সংস্থায় পরিচিত অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের তথ্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে (DHS) প্রদান না করে, তবে তারা শত শত কোটি ডলারের কল্যাণ তহবিল হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। বুধবার প্রকাশিত মার্কিন বিচার বিভাগের একটি নতুন আইনি মতামতে এই কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের অভিবাসন দমন অভিযান মেনে চলার জন্য রাজ্যগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে এটিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিচার বিভাগের আইনি পরামর্শক দপ্তর জানিয়েছে, দুটি প্রধান জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তহবিল গ্রহণকারী সমস্ত রাজ্যকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে উপস্থিত ব্যক্তিদের তথ্য ডিএইচএস-কে জানাতে হবে।


পূর্বে শুধুমাত্র সেইসব নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থা, যারা সরাসরি কল্যাণ তহবিল পরিচালনা করত, তাদেরই অভিবাসীদের তথ্য দিতে হতো। বিশ্ববিদ্যালয় এবং মোটরযান বিভাগসহ (DMV) অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এর আওতামুক্ত ছিল। কিন্তু নতুন নির্দেশনার ফলে রাজ্য সরকারের প্রতিটি সংস্থাকেই এই তথ্য আদান-প্রদানে বাধ্য করা হচ্ছে।

 

মতামতে স্বাক্ষরকারী ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল জোশুয়া ক্র্যাডক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই নির্দেশনা অমান্য করলে কর্মসূচির তহবিল হারানোসহ গুরুতর পরিণতি হতে পারে।’


ফেডারেল 'টেম্পোরারি অ্যাসিস্টেন্স ফর নিডি ফ্যামিলিস' (TANF) অনুদানের পরিমাণ বার্ষিক ১৬.৫ বিলিয়ন ডলার এবং 'সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম' (SSI) এর পরিমাণ বার্ষিক ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীরা এই দুটি কর্মসূচির কোনোটির জন্যই যোগ্য নন। ৫০টি রাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়া এবং অনেক মার্কিন অঞ্চল এই তহবিলগুলো পেয়ে থাকে।

 

১৯৯৮ সালের পূর্ববর্তী একটি নিয়ম ১৯৯৬ সালের ‘ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও কর্ম সুযোগ পুনর্মিলন আইন’-এর পরিধিকে ভুলভাবে সংকুচিত করেছিল বলে বিচার বিভাগের মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে।


২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈধ ও অবৈধ অভিবাসনের ওপর ব্যাপক দমন অভিযান চালিয়ে আসছেন। যেসব রাজ্য কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহযোগিতা সীমিত করতে চেয়েছে, প্রশাসন বারবার তাদের শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

 

এই নীতি পরিবর্তনটি ডেমোক্র্যাটিক রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র আইনি বাধার সম্মুখীন হতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু রাজ্য ডিএইচএস-কে TANF কর্মসূচির আওতাধীন ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত বিবরণ দেখা থেকে বিরত রাখতে মামলা করেছে। যদিও আদালত অতীতে কিছু ক্ষেত্রে মেডিকেইড ডেটার মতো নির্দিষ্ট তথ্য অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, তবুও সামগ্রিক তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

 

বর্তমানে ১৯টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি বৈধ মর্যাদাহীন অভিবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার অনুমতি দেয় এবং অনেক রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ধরনের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে থাকে। ফলে রাজ্যগুলোর কাছে এই সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখন কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নজরদারির মুখে পড়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন