জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় প্রশাসনকে এ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে তথ্য প্রদানকারীকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জ্বালানি সরবরাহ তদারকিতে নজরদারি জোরদার করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছিল যে, অবৈধ মজুদদারি বন্ধে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং দেশের প্রতিটি জেলায় ‘ভিজিলেন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। সোমবারের বিজ্ঞপ্তিতে সেই পুরস্কারের নির্দিষ্ট অংক প্রকাশ করা হলো। মূলত সচেতন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এই ভিজিলেন্স টিমগুলো কাজ করবে। অধিকাংশ জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের এসব টিমের আহ্বায়ক করা হয়েছে, কোথাও আবার এই দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জেরে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। তবে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ সংকট ও পাম্প বন্ধ থাকার অভিযোগ আসছিল। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অবৈধভাবে হাজার হাজার লিটার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন মজুদের প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমিয়ে আনতে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।
বর্তমানে জ্বালানি তেল বিপণনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত তিন প্রতিষ্ঠান-পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে প্রতিদিন সকালে অনলাইনে বৈঠক করছে জ্বালানি বিভাগ। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র দ্রুত শনাক্ত করতে জেলা প্রশাসকদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তদারকি জোরদার করতে দেশব্যাপী ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কিউআর কোড, ব্যানার, স্কুলভিত্তিক প্রচার ও লিফলেট বিতরণের মতো নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
ডিবিসি/টিবিএ