দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে আসছেন অভিনেতা জাহিদ হাসান। ছোট পর্দা দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া। বড় পর্দায়ও সমান পদচারণা তার। আজ এই গুণী অভিনেতার জন্মদিন।
তার ডাক নাম পুলক। মা রেখেছিলেন নামটি। ছেলেবেলার বন্ধুরা এখনও তাকে পুলক নামেই ডাকে। জাহিদ নামটি রেখেছিলেন তার দাদা। পুলক থেকে সবার ভালোবাসায় আজকের জাহিদ হাসান হয়েছেন এই অভিনেতা।
বাবা ইলিয়াস উদ্দিন তালুকদার ও মা হামিদা বেগমের ঘর আলো করে ১৯৬৭ সালের ৪ অক্টোবর সিরাজগঞ্জে নানাবাড়িতে জন্ম নেন জাহিদ। ছেলেবেলা, বেড়ে ওঠা আর অভিনয়ের শুরুটাও সেখানেই থিয়েটারে কাজের মাধ্যমে।
জাহিদ হাসান জনপ্রিয়তার মাধ্যমে আকাশ ছুঁয়েছেন টিভি ও সিনেমায়। অভিনয় করেছেন নানামুখী চরিত্রে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশা ও নানান বয়সি মানুষের কাছে যেন এক ভালোবাসার নাম জাহিদ হাসান। তবে দর্শকের কাছে তার অন্যান্য চরিত্রগুলোর পাশাপাশি কৌতুক চরিত্রগুলো বেশি জনপ্রিয়।
নব্বই দশকের শুরুতে দেশের প্রথম সারির অভিনেতাদের একজন হিসেবে কাজ শুরু করেন জাহিদ। ১৯৮৬ সালে আব্দুল লতিফ বাচ্চু পরিচালিত ‘বলবান’ ছবি দিয়ে তার অভিষেক ঘটে। অভিনয় জীবনের শুরু থেকে ভিন্নধর্মী নাটক ও চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। সেইসঙ্গে চলচ্চিত্রেও রয়েছে তার অনেক অর্জন।
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত টেলিফিল্ম নক্ষত্রের রাত, মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন, সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড, আজ রবিবার তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে আসে। হুমায়ূন আহমেদের শ্রাবণ মেঘের দিন, মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর মেড ইন বাংলাদেশ, মোস্তফা কামাল রাজের প্রজাপতি, তৌকীর আহমেদের হালদা, গোলাম সোহরাব দোদুলের সাপলুডু তার অভিনীত অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রে মতি চরিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অর্জন করেছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পরে আরও অসংখ্য নাটক টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন।
কলকাতাতে আশীষ রায়ের সেঁতারা নামে একটি সিনেমায় রাইমা সেনের বিপরীতে কাজ করে ওপার বাংলার দর্শকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছেন জাহিদ হাসান।
নির্মাতা হিসেবেও এ অভিনেতার খ্যাতি কম নয়। তার পরিচালিত দু’টি জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক হচ্ছে লাল নীল বেগুনী, টোটো কোম্পানি।
ব্যক্তিগত জীবনে জাহিদ হাসান জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের রয়েছে দুই সন্তান। মেয়ে পুষ্পিতা এবং ছেলে পূর্ণ। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন। তার ‘পুষ্পিতা প্রোডাকশন লিমিটেড’ নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে।
ডিবিসি/আরপিকে