না ফেরার দেশে চলে গেছেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজশাহীর কৃতি সন্তান শামস সুমন পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুরাগের টানেই তিনি নাটক ও চলচ্চিত্রের রঙিন ভুবনে পা রাখেন। তার ভরাট কণ্ঠস্বর আর সহজাত অভিনয় দক্ষতা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।
ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে বড় পর্দায়ও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তৌকির আহমেদ পরিচালিত কালজয়ী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘জয়যাত্রা’র মাধ্যমে রূপালি পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর ২০০৬ সালে বাদল খন্দকার পরিচালিত ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান।
শামস সুমনের অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি আসে ২০০৮ সালে। প্রখ্যাত নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘স্বপ্নপূরণ’ সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। তার অভিনয় জীবনের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে জোনাকির আলো, আয়না কাহিনি, প্রিয়া তুমি সুখী হও, চোখের দেখা এবং মন জানে না মনের ঠিকানা। সাবলীল অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শামস সুমন বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের দর্শকদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন।
ডিবিসি/এফএইচআর