অর্থনীতিতে পদ্মা সেতুর অবদান প্রাথমিক ধারণার চেয়ে বেশি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মোট জিডিপির এক দশমিক ২৩ শতাংশ এবং স্থানীয় জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে।
পদ্মা সেতুর আশপাশের জেলার সড়ক প্রশস্ত করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের
'সেতুর টোল বেশি হলেও পারাপারে সময় কমায় খরচ কমবে'
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিতে এই সেতু ২ শতাংশ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি আনবে।
পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মহাসড়ক এবং রেলপথগুলো সংযুক্ত হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে মানুষ এবং মালপত্র পরিবহণের গতি বাড়বে। ফলে পরিবহণ খরচ কমবে। সেই সাথে এই সেতুর মাধ্যমে মংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের ব্যবহার বাড়বে। এছাড়া রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ পথ হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, কাঁচামাল সরবরাহ সহজলভ্য হবে, শিল্পায়নের প্রসার ঘটবে।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মংলা বন্দর এবং মংলা বন্দরের সঙ্গে পায়রা বন্দরের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হওয়া পণ্য পরিবহণে অনেক সময় সাশ্রয় হবে।
সেই সাথে কৃষিতে ব্যাপক উন্নতি ঘটবে এবং কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন। এর ফলে আগামি পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিতে ২ শতাংশ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ৩ শতাংশের বেশি হারে প্রবৃদ্ধি হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আগামী বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর কারণে দেশের জিডিপি অন্তত এক শতাংশ এবং পাঁচ বছর পরে দুই শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতুর কারণে কাঁচামাল আনা নেয়া যেমন সহজ হবে তেমনি পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলেও জানান কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম।
তবে এ জন্য আশপাশের জেলাগুলোর সড়ক প্রশস্ত করা, আধুনিক টোল সংগ্রহের ব্যবস্থা করা, আদায় করা অর্থ যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া, সেতু ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সেতুকে কেন্দ্র করে পর্যটন এবং বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।