গত মার্চে নারী এশিয়ান কাপ চলাকালে ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান কয়েকজন ইরানি ফুটবলার। এরপর সাতজন খেলোয়াড় আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। এ ঘটনায় দেশে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ওঠে এবং বিষয়টি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
সাতজনের মধ্যে পাঁচজন পরে ক্ষমা চেয়ে ইরানে ফিরে গেলেও অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যান দুই ফুটবলার-ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ ও আতেফেহ রামাজানিসাদ। এবার তাদের অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব দিয়েছে দেশটির সরকার।
বুধবার (৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক-এর উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেওয়া হয়।
নাগরিকত্ব পাওয়ার পর রামাজানিসাদ বলেন, "গতকাল আমার জীবনের একটি বিশেষ ও অবিস্মরণীয় দিন ছিল। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি গর্বিত এবং গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।"
পাসান্দিদেহ বলেন, "আমরা যেসব কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, তার পর এই মুহূর্তের গুরুত্ব ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।"
রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার এক সপ্তাহের মধ্যেই দুই ফুটবলারকে ব্রিসবেন রোয়ার-এর সঙ্গে অনুশীলন করতে দেখা যায়। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে ক্লাবটি তাদের অভিনন্দন জানায়।
ক্লাবের এক কর্মকর্তা বলেন, "ফেব্রুয়ারি থেকে তারা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তা অধিকাংশ মানুষকে সারা জীবনেও মোকাবিলা করতে হয় না। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে দেখে আমরা আনন্দিত। এতে সামান্য ভূমিকা রাখতে পেরে আমাদেরও ভালো লাগছে।"
তিনি আরও বলেন, "কুইন্সল্যান্ড এখন তাদের বাড়ি। তারা যদি আবার আমাদের সঙ্গে মাঠে ফিরতে চায়, তবে ক্লাবের দরজা সবসময় তাদের জন্য খোলা থাকবে।"
ডিবিসি/আরএফই