খেলাধুলা, ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

বৃহঃস্পতিবার ১১ই জুন ২০২৬ ০৮:৩৩:১৮ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

৪০ বছরের অপেক্ষা, অবশেষে মিরপুরে হলো তার অবসান। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারাল টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিরাজের দল। বোলারদের দৃঢ়তা আর ব্যাটারদের ধৈর্য পরীক্ষায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অর্জন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টি নামার আগে সফরকারীরা ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে। এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। ব্যাটারদের দলগত পারফরম্যান্সে ৫ উইকেট হাতে রেখেই সেই লক্ষ্য টপকে যায় বাংলাদেশ।


এর আগে, প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই এক লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখায় অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। ওয়ানডে ইতিহাসের ১০২৪টি ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম শূন্য রানে ৩ উইকেট হারানোর নজির গড়ল জশ ইংলিসের দল।


ইনিংসের শুরুতে অজিদের ওপর চেপে বসেন তাসকিন আহমেদ। টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ওভারে কুপার কনোলিকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে ম্যাট রেনশকেও সাজঘরে পাঠান কাটার মাস্টার। শুরুতে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পর অ্যালেন ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।


১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে আউট করেন তানভীর ইসলাম। ফলে ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। তবে ৪১তম ওভারে তাসকিনের জোড়া আঘাতে আবারও ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি করে এবং তানভীর ইসলাম ২টি উইকেট নেন।


১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থের বলে স্ট্রেট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই ব্যাটার মিলে গড়ে তোলেন ৮৬ রানের চমৎকার এক জুটি। তবে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রানে কাটা পড়েন সৌম্য।


দলীয় ৮৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর উইকেটে থিতু হতে পারেননি শান্তও। দলের স্কোর যখন ৯৮, তখন ৪২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টাইগারদের এই সহ-অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে অবশ্য নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন শান্ত, যা যৌথভাবে বাংলাদেশের দ্রুততম।


মিরপুরের উইকেটে লিটন দাসের ওয়ানডে পরিসংখ্যান এমনিতেই খুব একটা ভালো নয়। দীর্ঘ এক যুগের ক্যারিয়ারে এই মাঠে করতে পারেননি কোনো ফিফটি। আজকের ম্যাচেও যেন কাটল না সেই মিরপুর-ধাঁধা। দারুণ খেলতে থাকা লিটন ক্যামেরন গ্রিনের আচমকা বাউন্সারে গ্লাভসবন্দি হয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে জমা পড়েন। ২১ রান করে বিদায় নেন এই ক্লাসিক ব্যাটার।


ছয় নম্বরে নামা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের শুরুটা ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী। ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে খেলেছেন প্রথম বল। অ্যাডাম জাম্পার ওপর চড়াও হয়ে হাঁকিয়েছেন ৩টি বাউন্ডারি। কিন্তু জাম্পার বলেই একটি উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি। ফলে ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। তবে শেষদিকের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাকি পথ অনায়াসেই পাড়ি দেয় স্বাগতিকরা।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন