অস্ত্রসজ্জিত চালকবিহীন ড্রোনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সিঙ্গাপুর। এর মধ্য দিয়ে অপারেটরদের সরাসরি ঝুঁকির মুখে না ফেলে লক্ষ্যবস্তুতে নজরদারি ও আঘাত হানতে সক্ষম এমন প্রযুক্তির প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান আগ্রহের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দেশগুলোর ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রতিযোগিতায় দুর্ঘটনা বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সঠিক নীতিমালা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সিঙ্গাপুরের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয়কারী মন্ত্রী কে. শানমুগাম জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তারা অস্ত্রসজ্জিত চালকবিহীন ড্রোনের ট্রায়াল শুরু করবেন। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য হুমকি বৃদ্ধির পাশাপাশি জনবল সংকট মোকাবেলায় এই প্রযুক্তিগত উত্তরণকে তিনি একটি ‘কোয়ান্টাম আপগ্রেড’ বা যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, এর ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযান চালানোর বদলে ড্রোনের মাধ্যমেই আড়ালে থাকা সশস্ত্র অপরাধীদের নির্মূল করা সম্ভব হবে।
কেবল সিঙ্গাপুরই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও তাদের ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা উন্নত করছে। বিস্তৃত সামুদ্রিক এলাকা, অরক্ষিত সীমান্ত এবং দুর্গম ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এই অঞ্চলে ড্রোনের ব্যবহার বিশেষভাবে সুবিধাজনক। সম্প্রতি মালয়েশিয়া শত্রু ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম একটি উচ্চ গতির ইন্টারসেপ্টর ড্রোন উন্মোচন করেছে। ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ড্রোন-রেসিং মহড়ার আয়োজন করেছে। এছাড়া, থাইল্যান্ডের রয়্যাল থাই আর্মি থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে পরিচালনার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পন্ন সুইসাইড ও বোম্বার ড্রোন বহর সামনে এনেছে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ১৫,৩০০ মার্কিন ডলার।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
ডিবিসি/এফএইচআর