ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় র্যাব-৯ অভিযান পরিচালনা করে রিফাত বাহিনীর প্রধান সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানায় র্যাব।
সোমবার (১০ই নভেম্বর) উপজেলার উজানচর খোসকান্দি এলাকায় ভোররাতে র্যাব-৯ সিপিসি-১ জেলা পুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
র্যাব জানায়, নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণিশাহ মাজারের আধিপত্য নিয়ে খোল্লাকান্দি গ্রামের রিফাত বাহিনী ও নূরজাহানপুর গ্রামের শিপন বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ১রা নভেম্বর রাতে এ বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সেদিন রাত ৮টার দিকে শিপন গণিশাহ মাজার সংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় রিফাত বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে শিপন, ইয়াসিন ও নুরআলম গুলিবিদ্ধ হন। এসময় স্থানীয় এমরান মাষ্টারও গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই শিপন নিহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ইয়াসিনের মৃত্যু হয়।
র্যাব আরও জানায়, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ই নভেম্বর বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দি এলাকায় র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ৮টি পাইপগানসহ ৪৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে রিফাতকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১০ই নভেম্বর ভোরে রিফাতকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে খোল্লাকান্দি গ্রামের লিমনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে খাটের নিচে মাটির ভেতর লুকানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৯ সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরনবী বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব সর্বদা সচেষ্ট। সংঘর্ষের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিবিসি/এসইউ