ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) ইরানে রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংরক্ষাণাগার, সামরিক স্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি ভবন লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে অবস্থিত ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দুটি গোয়েন্দা সদর দপ্তর এবং ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের একটি কার্যালয়ও এ হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল।
আইডিএফ দাবি করেছে, তেহরানসহ উত্তর ও মধ্য ইরানের মোট ৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে তারা। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, লঞ্চিং সাইট, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিভিন্ন অস্ত্রাগার এবং ইরানি নীতিনির্ধারণী ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার কার্যালয়সমূহ।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের আনুমানিক ৪৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের মধ্যে ৩৩০টিই ধ্বংস বা অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। বিমান হামলায় ভূগর্ভস্থ টানেলগুলোর প্রবেশপথ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেক লঞ্চার সেখানে আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছে তারা। ইরানের কাছে থাকা অবশিষ্ট প্রায় ১৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এ সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি এ হামলার কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে তেল আবিবের একটি জনবহুল এলাকায় ইরানের ছোড়া ১০০ কেজি বিস্ফোরক সমৃদ্ধ একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর ফলে ওই এলাকার তিনটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত ৪ জন আহত হন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ সংঘাত এমন সময় নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন তার প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেহরানে আইআরজিসির প্রধান নিরাপত্তা সদর দপ্তরে নতুন করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, বেসামরিক এলাকার ভেতর স্থাপিত ওই সদর দপ্তর থেকেই ইরান তাদের আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ডিবিসি/এএমটি