জাতীয়

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাছে নতুন ৩০০ কোটি ডলার ঋণ চায় সরকার

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় পুরোনো ঋণের পিছিয়ে পড়া কিস্তি ছাড়ের চেয়ে নতুন করে ঋণ নেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের কাছে মোট ৩০০ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ চেয়ে ইতোমধ্যে মৌখিক আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আইএমএফের কাছে ২০০ কোটি এবং বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক শেষে দেশে ফিরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমানে ঋণের শর্ত নির্ধারণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি চলছে, যা চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

 

উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর সংকট উত্তরণে আইএমএফ পাঁচ হাজার কোটি এবং বিশ্বব্যাংক দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় তুলনামূলক সহজ শর্তে এই তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার। তবে নতুন এই সহায়তার জন্য আইএমএফ বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ছাড়া অন্যান্য সব খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার, টার্নওভার কর আরোপ, করছাড় বাতিল এবং অভিন্ন ভ্যাট হার চালু করা। পাশাপাশি ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনায় আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

আইএমএফের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কাজ করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব খাতে সংস্কার আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্বনীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের জন্য শিগগিরই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে একক ভ্যাট হার বাস্তবায়ন ও অটোমেশন কার্যক্রম জোরদারের পদক্ষেপও চলমান রয়েছে। মূলত বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন বেড়ে যাওয়ায় শর্ত যথাসম্ভব শিথিল করে এই নতুন ঋণ পেতে আগ্রহী সরকার। কারণ, আইএমএফের অর্থ ছাড় না হলে অন্যান্য দাতা সংস্থার অর্থায়নও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এদিকে, আর্থিক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারে পিছিয়ে থাকার কারণে আইএমএফ তাদের বর্তমান ঋণ কর্মসূচির নির্ধারিত পর্যালোচনা মিশন এপ্রিলের পরিবর্তে জুলাইয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে জুনের আগে ১৩০ কোটি ডলারের দুই কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। চলমান এই ঋণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আইএমএফের সঙ্গে বর্তমান চুক্তিটি অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা হয়েছিল, তাই ওই চুক্তির অনেক শর্ত বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সংকট মোকাবিলায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার, যা পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে এবং আরও ১৮৬ কোটি ডলার পাওয়া বাকি রয়েছে।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন