আন্তর্জাতিক, বিবিধ

আকাশ পথের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার কনকর্ড এয়ারক্রাফট

সিরাজুর রহমান

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বর্তমানে বিশ্বের প্রযুক্তি সমৃদ্ধ উন্নত দেশগুলো সুপারসনিক ও হাইপারসনিক গতিসম্পন্ন নতুন প্রজন্মের যাত্রীবাহী বিমান নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত এসব বিমানের কোনটিই বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করে সার্ভিসে আনতে পারেনি। যদিও চীন ও যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইতোমধ্যেই এই সেক্টরে শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, প্রায় ৫০ বছর আগে, ১৯৭৬ সালের দিকে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ মালিকানাধীন সুপারসনিক গতির ৪টি (Rolls-Royce/Snecma Olympus 593 Mk 610 turbojets) টার্বোজেট ইঞ্জিন চালিত বিমান কনকর্ড (Concorde) যাত্রী পরিবহনে বিপ্লব ঘটিয়েছিল।

 

বাণিজ্যিকভাবে সফল কনকর্ড এয়ারক্রাফটের ফুয়েল ক্যাপাসিটি ছিল ম্যাক্সিমাম ৯৫,৬৮০ কেজি। তাছাড়া এর উড্ডয়ন এবং অবতরণের জন্য ৩.৬ কিলোমিটারের বিশাল আকারের রানওয়ে প্রয়োজন হতো। তবে এর প্রতি ঘণ্টা রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খরচ অত্যন্ত বেশি ছিল।

 

১৯৭৬ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা চালু থাকা এই কিংবদন্তি কনকর্ড এয়ারক্রাফটটি শব্দের চেয়েও দ্বিগুণ গতি, অর্থাৎ ম্যাক ২.০৪ বা ২১৮০ কিমি/ঘণ্টা (১৩৫৪ মাইল/ঘণ্টা) বেগে যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম ছিল। তিনজন পাইলট ও ক্রু দ্বারা চালিত কনকর্ড বিমানের প্যাসেঞ্জার ক্যাপাসিটি ছিল ম্যাক্সিমাম ৯২ থেকে ১২০ জন মাত্র।

 

বাস্তবে ৭,২২২.৮ কিলোমিটার রেঞ্জের কনকর্ড বিমান ছিল ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম, উচ্চ প্রযুক্তির এবং ব্যতিক্রমধর্মী বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান। এটি ছিল আসলে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত মাত্র দুটি সুপারসনিক যাত্রীবাহী বিমানের একটি; অপরটি ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি টুপোলেভ Tu-144।

 

টুপোলেভ Tu-144 ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে নির্মিত হলেও বাস্তবে এটি বাণিজ্যিকভাবে সফল কোনো যাত্রীবাহী এয়ারক্রাফট ছি না। এর ইঞ্জিন ছিল অত্যন্ত শব্দযুক্ত এবং জ্বালানি খরচ অনেক বেশি। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের প্যারিস এয়ার শো-তে একটি দুর্ঘটনা ফলে এর বাণিজ্যিক যাত্রার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

 

তবে, আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, একবিংশ শতাব্দীর সকল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং এভিয়েশন খাতে বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও বিশ্বের কোনো দেশ এখনো পর্যন্ত কনকর্ড কিংবা টুপোলেভ Tu-144-এর মতো উচ্চগতির এবং কার্যকর সুপারসনিক গতির বাণিজ্যিক বিমান সার্ভিসে আনতে পারেনি। যা একবিংশ শতাব্দীর এভিয়েশন প্রযুক্তিতে এক সীমাবদ্ধতা হিসেবে রয়ে গেছে।

 

পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান সময়ে এভিয়েশন প্রযুক্তির বহুমাত্রিক উন্নয়ন ঘটলেও বাস্তবে ৭০ এবং ৮০-এর দশকে তৈরি কনকর্ডের মতো ডেডিকেটেড এবং অত্যাধুনিক সুপারসনিক যাত্রীবাহী বিমান আর কিন্তু তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তাই, প্রযুক্তির দিক থেকে বিশ্ব এগিয়ে গেলেও, কনকর্ডের মতো বাস্তব ও কার্যকরী উদ্ভাবন আজও এক আশ্চর্যজনক আবিষ্কার হিসেবে থেকে গেছে।

 

সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও লেখক।

 

ডিবিসি/ এইচএপি  

আরও পড়ুন