নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না আখাউড়া-লাকসাম ডাবল রেল লাইনের কাজ।
জুনের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও আরও এক বছর বাড়তি সময় লাগবে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রেলপথ সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় ঢাকা চট্টগ্রামের বাকি ২৫৩ কিলোমিটার ডাবল রেলপথের সুফল মিলছে না। সেই সঙ্গে থেকেই যাচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
২০১৪ সালে একনেকে পাস হয় প্রকল্পটি। তবে আখাউড়া লাকসাম ৭২ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইনকে ডাবল করার কাজ শুরু হয় ২০১৬'র নভেম্বরে। ৬ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা খরচের এ প্রকল্পের অক্টোবর পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ৬৪ শতাংশ।
আখাউড়া-লাকসাম ডাবল রেল লাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান বলেন, 'হয়টো আরো এক বছর সময় বাড়াতে হবে। এতে দ্রব্যমূল্য বাড়বে না, শুধু সময় বাড়বে। আমাদের নকশায় যে ভবনগুলো পড়ে সেগুলো সরাতে এবং ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিতে সময় লাগে। এগুলো আমাদের চাওয়া মাফিক হয়না। তাই দেরি হয়।'
এদিকে, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেন, 'আখাউড়া-লাকসাম ডাবল রেল লাইন প্রকল্প অনেক দিন থেকেই চলছে। কিন্তু কোনোটিই আমরা সময় মত শেষ করতে পারি না। অবকাঠামো হল না, চালক তৈরি হচ্ছে না। এজন্য মানুষের দুর্গতি হচ্ছে।'
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইন বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত রেলপথ। এ পথের ১১৮ কিলোমিটার আগে থেকেই ডাবল লাইন ছিলো। ২০১১ তে টঙ্গী-ভৈরববাজার ৬৪ কিলোমিটার, লাকসাম-চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার ডাবল লাইন করা হয়। আর মেঘনা ও তিতাস নদীর ওপর দ্বিতীয় রেলসেতু তৈরি করা হয়। ৩২৫ কিলোমিটার রেলপথের আখাউড়া-লাকসামের ৭২ কিলোমিটারই শুধু এখন সিঙ্গেল লাইন।
রেলযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে এখন সময় লাগে সোয়া ৫ ঘন্টা। আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইন হলে, এ সময় কমে আসবে সোয়া তিনঘন্টায়।