ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালীন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসী যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, এই সংঘাত কেবল ভূ-রাজনৈতিক নয়, বরং এটি সমকালীন বিশ্বে ভালো ও মন্দের সংজ্ঞা এবং মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
বুধবার (১৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বাকায়ি এই আহ্বান জানান।
ইসমাইল বাকায়ি তার বার্তায় বিশ্বের সকল স্তরের মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি বিবেকবান মানুষের প্রতি আমার আহ্বান- মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান, শিখ, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং যারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাসী নন কিন্তু শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাকে ধারণ করেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আগ্রাসী যুদ্ধটি শুরু করেছে এমন এক সময়ে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনায় লিপ্ত ছিল।
ইরানি মুখপাত্রের মতে, এই যুদ্ধ কেবল জমি বা সম্পদের দখল নিয়ে নয়। তিনি একে একটি সংজ্ঞায়িত সংগ্রাম হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, একদিকে তারা দাঁড়িয়ে আছে যারা যুদ্ধের সকল নিয়ম ও মানবিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করতে আনন্দ পায়-যারা নিছক বিনোদনের জন্য হত্যাযজ্ঞ চালায়, শিশুদের হত্যা করে পরিবারকে যন্ত্রণা দেয় এবং নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা পরীক্ষার জন্য নারীদের ক্রীড়া স্থাপনায় হামলা চালায়।
তিনি আরও যোগ করেন, এটি এমন এক পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যারা নিরস্ত্র জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়াকে মজা হিসেবে দেখে। অন্যপক্ষে রয়েছে সেই গর্বিত জাতি যারা নিজেদের শক্তি ও সংকল্পের ওপর ভর করে স্বদেশের মর্যাদা রক্ষা করছে।
বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি চরম সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে বাকায়ি বলেন, বিশ্ববাসীকে এখন বেছে নিতে হবে তারা কোন ধরনের পৃথিবীতে বাস করতে চায়। আধুনিক দাসপ্রভুদের শাসিত এক বিশ্ব-যেখানে ঔদ্ধত্য, আধিপত্য আর জবরদস্তির শাসন চলবে। নাকি সম্মান, ন্যায়বিচার, শান্তি এবং মানবিক মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক বিশ্ব।
বক্তব্যের শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মানবতার বিবেক এখনো মরে যায়নি। কিন্তু এই সময়ে নীরব থাকা মানেই শয়তানের বা অন্যায়ের সাথে আপস করা। আপনি যদি বর্বরতা ও আধিপত্যবাদকে প্রত্যাখ্যান করেন, তবে কথা বলার এবং কাজ করার নৈতিক সাহস সঞ্চয় করুন। ইতিহাসের সঠিক পক্ষে দাঁড়ান, নতুবা পৃথিবী এক চরম অরাজকতা ও পরাধীনতার অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে। মনে রাখবেন, ইতিহাস এই পছন্দকেই স্মরণ রাখবে।
সূত্র: তাসনিম
ডিবিসি/এসএফএল