আন্তর্জাতিক, বিবিধ

আজ আন্তর্জাতিক সন্দেহবাদী দিবস

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ১৩ই জানুয়ারী ২০২৪ ০৮:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তি আর প্রমাণ ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করা পাপ বলে যারা মানেন, তাদের জন্য আজকের দিনটি বিশেষ একটি গুরুত্ব বহন করছে। কারণ আজ আন্তর্জাতিক সন্দেহবাদী দিবস।

সন্দেহপ্রবণতা ভালো না খারাপ তা নির্ভর করে তার ব্যবহারের ওপর। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সন্দেহপ্রবণতা নেতিবাচক হতে পারে। কারণ, এটি সম্পর্কহীনতা, অবিশ্বাস এবং অশান্তির কারণ হতে পারে। কিন্তু নতুন জ্ঞান সৃষ্টি বা সত্যান্বেষণে সন্দেহপ্রবণতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি বা সত্যান্বেষণে সন্দেহ অত জরুরি। কোনো কিছু সম্বন্ধে সন্দেহ না থাকলে অধিকতর জ্ঞান লাভ সম্ভব নয়। কারণ, সন্দেহই হলো জ্ঞানের চাবিকাঠি। সন্দেহের মাধ্যমে আমরা যেকোনো বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারি এবং সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পারি। এভাবেই আমরা নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পারি।

সন্দেহকে বিশ্বাসের বিপরীত হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং, সন্দেহ বিশ্বাসের অংশ। কারণ, যেকোনো বিষয় সম্পর্কে বিশ্বাস থাকলেই আমরা সেই বিষয় সম্পর্কে সন্দেহ করতে পারি। সন্দেহের মাধ্যমে আমরা আমাদের বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করতে পারি।

সুতরাং, সন্দেহপ্রবণতা ভালো না খারাপ, তা নির্ভর করে এর ব্যবহারের উপর। সন্দেহকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে তা আমাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু, সন্দেহকে যদি নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এক্ষেত্রে জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান দার্শনিক পল টিলিকের (১৮৮৬-১৯৬৫) বক্তব্যকে আমলে নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেছেন, সন্দেহ বিশ্বাসের বিপরীত কিছু নয়, বরং এটা বিশ্বাসেরই অংশ।

সন্দেহপ্রবণতাকে ভালো না খারাপ বলার আগে, আমাদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে এটি কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে। যদি এটিকে অযৌক্তিক ও নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু যদি এটিকে ইতিবাচক ও সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা আমাদেরকে জ্ঞান ও সত্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন উত্থাপন ও প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সত্যের কাছে পৌঁছাতে হয়। চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে ফেলা কোনো কাজের কথা নয়। জ্ঞানবিজ্ঞানের বড় সব আবিষ্কারের উৎসই তো আসলে সন্দেহ।

আজ ১৩ জানুয়ারি, আন্তর্জাতিক সন্দেহবাদী দিবস। ১৯৯০-এর দশকে এটি প্রথম পালিত হয়। দিনটি কিন্তু পালন করতে পারেন। যা বিশ্বাস করছেন, সেই সব বিশ্বাসের ভিত্তিগুলো সত্যের নিক্তিতে মেপে দেখবেন না একবার!

ডিবিসি/ এসএসএস

আরও পড়ুন