আজ ২১ মে, বিশ্ব চা দিবস। সকালে ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে অফিসের ক্লান্তি দূর করা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে আড্ডা-বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এক কাপ চা। কবীর সুমনের সেই বিখ্যাত গানের কলি, ‘এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই’- যেন প্রতিদিনের এই চায়ের আড্ডার মধুর অনুভূতিকেই মনে করিয়ে দেয়।
বিশ্বজুড়ে পানির পর সবচেয়ে জনপ্রিয় এই পানীয়টির চাহিদার গ্রাফ প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী। ‘ন্যাশনাল টুডে’-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে মানুষ প্রায় ২৫ হাজার কাপ চা পান করেন। সেই হিসাবে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটিরও বেশি কাপ চা পান করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চা পানকারীদের সংখ্যাও আরও বাড়বে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে চায়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে; এই দুটি দেশই বিশ্বের মোট চা পানের ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ অবদান রাখছে।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এশিয়ায় গরম চা পানের সূচনা হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে। তবে ষোড়শ শতাব্দীর আগে ইউরোপে চায়ের প্রবেশ ঘটেনি। পরবর্তীতে ১৬০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের মানুষ এই সুস্বাদু পানীয়টির প্রেমে পড়তে শুরু করেন এবং এটি আধুনিক উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ শাসনামলেই মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে চায়ের বাণিজ্যিক উৎপাদন প্রবর্তিত হয়, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী একটি বিশাল শিল্পে রূপ নেয়। আধুনিক সংস্করণে আমরা যে চা পান করি, তা মূলত 'ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস' (Camellia sinensis) নামক উদ্ভিদ থেকে পাওয়া পাতা গরম পানিতে মিশিয়ে তৈরি করা হয়।
এই দিবসটির পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে, যখন শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া ও উগান্ডার মতো প্রধান চা উৎপাদনকারী দেশগুলো একত্রিত হয়ে আন্তর্জাতিক চা দিবস পালন শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এবং ২০২০ সালের ২১ মে বিশ্বজুড়ে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ ঘোষিত 'বিশ্ব চা দিবস' পালিত হয়। এই বিপুল চা উৎপাদন ও বৈশ্বিক চাহিদার নেপথ্যে রয়েছে লাখ লাখ চা-শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঘাম। আন্তর্জাতিক চা দিবসে চায়ের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব উদযাপনের পাশাপাশি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের অবদানকেও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
ডিবিসি/পিআরএএন