সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণ মানুষের অধিকার আদায়, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করা সংগঠনটির ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী- ১৯৬৮ থেকে ২০২১। ৫৩ বছরের পথচলা। ৭১'র মহান মুক্তিযুদ্ধ- নব্বইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সব আন্দোলন সংগ্রামে ছিল অংশগ্রহণ। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণ মানুষের অধিকার আদায়ে অর্ধ শতকের বেশি সময় ধরে কাজ করছে সংগঠনটি।
১৯৬৮ সাল, উত্তাল বাংলা। চারিদিকে স্লোগান, মিছিল, প্রতিবাদ। জেলখানায় বন্দী বিল্পবীরা। সেখানে বসে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলেন সত্যেন সেন। তৈরি করেন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী উদীচী।
আজ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে। প্রত্যয় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার। সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশের গণ মানুষের কথার পাশপাশি লোকজ নাচ, গান, নাটকসহ সব ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া তাদের লক্ষ্য। বারবার মৌলবাদীদের হামলার শিকার হয়ে রক্ত ঝরিয়েছে-প্রাণ দিয়েছে সংগঠনটি।
উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম জানান, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী নানা সময় উদীচীকে লক্ষ্য করে হামলার চালিয়েছে। ১৯৯৯ সালে উদীচীর ১২তম সম্মেলনে যশোরে এক ভয়াবহ হামলা হয়। এতে ১০ জন নেতা-কর্মী ও শিল্পী প্রাণ হারান।
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন জানান, উদীচীর সদস্যরা একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছে। দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উদীচী সময়ের প্রয়োজনীয়তা অটুট রেখেছে।
"নৈঃশব্দ ভেঙ্গে জেগে ওঠো দ্রোহে" স্লোগানকে সামনে রেখে উদীচীর এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গিকার শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া।