যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হতে যাচ্ছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই হামলায় তিনি প্রাণ হারান। ইরাকের ঐতিহাসিক কারবালা থেকে ইতিমধ্যে তার মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং জানাজা সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে তার নিথর দেহ ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করা এই নেতাকে তার জন্মস্থান মাশহাদেই কবরস্থ করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্মীয় নেতা হিসেবে তাকে বিশেষ স্বীকৃতি দিতেই ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসবাস থাকা মাশহাদ শহরটি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল এলাকা এবং শিয়া মুসলিমদের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান। শিয়াদের শীর্ষ ১২ নেতার অন্যতম এবং হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উত্তরসূরি বলে বিশ্বাস করা ইমাম রেজার কবর এই শহরেই অবস্থিত। নবম শতকে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যার পর ইমাম রেজাকে এখানে দাফন করা হয়েছিল বলে শিয়ারা বিশ্বাস করেন।
এই মাশহাদ শহরের সঙ্গে ইরানের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদেরও জন্মগত ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। খামেনির ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা এখানেই জন্মগ্রহণ করেন। এছাড়া ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিও এই পবিত্র শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। একসময় রাইসিকে ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, ২০২৪ সালে এক আকস্মিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে তাকেও এই ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সেই সমাহিত করা হয়েছিল।
ডিবিসি/এফএইচআর