পশ্চিম আকাশে এক ফালি রুপালি চাঁদ দেখা দেওয়ার সঙ্গেই অবসান হয়েছে দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার। আজ শনিবার সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।
রমজানজুড়ে ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির যে শিক্ষা মানুষ অর্জন করেছে, আজ তা ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে পূর্ণতা পাওয়ার দিন। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম সবখানেই বইবে আনন্দের জোয়ার। নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নিজ নিজ শিকড়। বাসে, ট্রেনে বা লঞ্চে দীর্ঘ পথের ক্লান্তি ভুলে সবাই স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিবে।
এবারের ঈদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে থাকছে। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ সময় পর রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সহাবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ উদ্দীপনা ও ইতিবাচক বার্তার সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁরা একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক এই জামাতে ইমামতি করবেন। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই জামাতে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির পাশাপাশি নারীদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাতসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোট ১,৭১১টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। উৎসবের এই দিনে অনেকেই কবরস্থানে গিয়ে প্রয়াত স্বজনদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করছেন।
উৎসবের আমেজ থাকলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি সাধারণ মানুষের আলোচনায় রয়েছে। তবে তা ছাপিয়ে গেছে ঈদের খুশি ও সম্প্রীতির আবহে। গতকাল রাত থেকেই মেহেদির রঙে হাত রাঙানো আর সুস্বাদু রান্নার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন গৃহিণীরা। পাড়া-মহল্লায় বসেছে ঈদমেলা, আর বিকেলের দিকে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করবেন সব বয়সী মানুষ। সব মিলিয়ে কবির সেই চিরচেনা সুরের মতোই আজ নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার দিন। এই ঈদ যেন সবার জীবনে অনাবিল শান্তি, সাম্য ও নতুন আগামীর অঙ্গীকার নিয়ে আসে, এমনটাই প্রত্যাশা দেশের সর্বস্তরের মানুষের।
ডিবিসি/পিআরএএন