ধর্ম

আজ প্রবারণা পূর্ণিমা

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ৬ই অক্টোবর ২০২৫ ০৯:২২:৪২ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আজ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ 'প্রবারণা পূর্ণিমা' উৎসব। এটি আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। আত্মশুদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের আয়োজন এই প্রবারণা।

আজ সোমবার (৬ই অক্টোবর) রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ই অক্টোবর) সকাল ৯টা ৩ মিনিটে তিথি শেষ হবে।

আত্মশুদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের আয়োজন এই প্রবারণা।

 

মহামতি গৌতম বুদ্ধ নির্বাণ লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে অশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস প্রবারণা ব্রত পালন করেন। সেই থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বর্ষাবাস শেষে এই দিনটি পালন করেন।

 

প্রতিবছর আষাঢ় মাসে প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাস ধরে দেশের প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে শুভ কঠিন চীবর দান উৎসব হয়ে থাকে।

কঠিন চীবর দান উৎসব বৌদ্ধদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর শুভ প্রবারণার মধ্য দিয়ে বিহারে বিহারে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যা চলে মাসজুড়ে।

 

‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান’ উপলক্ষে গত শনিবার বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিশ্বে বিরাজমান অস্থিতিশীল অবস্থা দূরীকরণ ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

এছাড়া প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

 

অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শীলগ্রহণ, মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনাসভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা, ফানুস উড্ডয়ন ও বুদ্ধকীর্তন।

 

বৌদ্ধদের মতে, এই পূর্ণিমা তিথিতে মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে মাতৃদেবীকে অভিধর্ম দেশনার পর ভারতের সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেন। মানবজাতির সুখ, শান্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে দিকে দিকে স্বধর্ম প্রচারের জন্য তিনি ভিক্ষু সংঘকে নির্দেশ দেন। একই দিন তাঁর তিন মাসের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তি ঘটে। পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এ প্রবারণা তিথি। প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান।

 

বৌদ্ধ ধর্মীয় লেখক সুদর্শন বড়ুয়া বলেন, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাব্রত শেষে প্রবারণা উৎসবের আয়োজন করা হয় বৌদ্ধ পল্লীতে। প্রবারণা অর্থ আত্মসমর্পণ ও আত্মশুদ্ধির অনুষ্ঠান। এটি ভিক্ষু সংঘের বিনয়-কর্মের নাম। বুদ্ধের সময়কালে শত শত ভিক্ষু সংঘ একই স্থানে অবস্থান করে ধর্ম ও বিনয় শিক্ষা করতেন। এ উপলক্ষে বৌদ্ধ বিহারগুলোয় ফানুস উত্তোলন করা হয়।

 

ডিবিসি/এমইউএ

আরও পড়ুন