আজ ২২শে শ্রাবণ। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ পুরুষ, নোবেলজয়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণবার্ষিকী। ১৯৪১ সালের এই দিনে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অনবদ্য সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্ব। প্রয়াণদিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের এই যুগস্রষ্টাকে।
১৮৬১ সালের ৭ই মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা দেবী। প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকেও গৃহশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ও নিজের জ্ঞান দিয়ে বাল্যকালেই সাহিত্যচর্চায় অনন্য মেধার পরিচয় দেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সুরকার ও চিত্রশিল্পী। তাঁর লেখনীতে বাংলা সাহিত্য আধুনিকতায় রূপ নেয় এবং বিশ্বমঞ্চে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের জন্য এশিয়ার প্রথম সাহিত্যিক হিসেবে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বিশ্বসাহিত্যে তিনি একমাত্র ব্যক্তিত্ব, যার রচিত দুটি গান দুটি ভিন্ন স্বাধীন দেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত বাংলাদেশের 'আমার সোনার বাংলা' এবং ভারতের 'জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে'।
সাহিত্যের পাশাপাশি প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে তিনি গড়ে তোলেন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান 'শান্তিনিকেতন' ও 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি চিত্রাঙ্কনে মনোনিবেশ করেন এবং সেখানেও আধুনিক শিল্পকলার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
মৃত্যুর আট দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন, সাহিত্য ও সুর আজও বাঙালির আবেগ, সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরম আশ্রয় হয়ে রয়েছে। প্রয়াণবার্ষিকীতে কালজয়ী এই দূরদর্শী চিন্তাবিদের প্রতি দেশবাসী জানাচ্ছে বিনম্র শ্রদ্ধা।