প্রতি বছর ২৮ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’। ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসাই এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আবিষ্কার এবং এর টিকা উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ড. বারুখ স্যামুয়েল ব্লামবার্গের জন্মদিনকে স্মরণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) উদ্যোগে দিবসটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বাণীতে জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ কর্মসূচি ও অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা, ভয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং চিকিৎসাকে সবার জন্য সহজলভ্য করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা এবং প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ এর কারণে লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
হেপাটাইটিস মূলত যকৃত বা লিভারের প্রদাহজনিত একটি রোগ, যা প্রধানত ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত এ, বি, সি, ডি এবং ই—এই পাঁচ ধরনের ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ সৃষ্টি করে লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর এবং লিভার ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ অনুভব করেন না, যার ফলে অজান্তেই রোগটি অত্যন্ত গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
সময়মতো পরীক্ষা, টিকাদান, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে নবজাতকসহ সব বয়সীদের জন্য হেপাটাইটিস বি-এর অত্যন্ত কার্যকর টিকা রয়েছে এবং হেপাটাইটিস সি-এর নিরাময়যোগ্য ওষুধও বর্তমানে সহজলভ্য। বাংলাদেশেও হেপাটাইটিস একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য সমস্যা হলেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার, একবার ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ ব্যবহার, নিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমেই প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করে একটি হেপাটাইটিসমুক্ত নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
ডিবিসি/পিআরএএন