বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র ও প্রধান ধর্মীয় উৎসব 'শুভ মাঘী পূর্ণিমা' আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি দিন। ভাবগম্ভীর পরিবেশ এবং ধর্মীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডাগুলোতে নানামুখী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিহারগুলোতে বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মাঘী পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ এবং আগামীকাল এই দুই দিনব্যাপী নানা আয়োজন থাকছে। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে আজকের অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ গ্রহণ, পবিত্র বুদ্ধপূজা ও সীবলী পূজা, বুদ্ধমূর্তি ও সীবলী মূর্তির জীবন্যাস, অষ্ঠপরিষ্কারসহ সংঘদান, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান, অতিথিদের ভোজন, পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ এবং বিশেষ আলোচনা সভা।
এছাড়া, দেশের অন্যান্য সব বৌদ্ধ বিহারেও সকালে ধর্মীয় কার্যাদি ও বুদ্ধপূজা উৎসর্গের পর বিকেলে ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ও রাতে সম্মিলিত বিশেষ ধর্মীয় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।
বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শাস্ত্রবিদদের মতে, এই নির্দিষ্ট পূর্ণিমা তিথিতেই তথাগত গৌতম বুদ্ধ তার ভিক্ষুসংঘের কাছে নিজের ‘মহাপরিনির্বাণ’ দিবস ঘোষণা করেছিলেন। অর্থাৎ, তিনি এই মাঘী পূর্ণিমা দিবসে জানিয়েছিলেন, এই দিন থেকে ঠিক তিন মাস পর শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে তিনি নিজ দেহত্যাগ করবেন। বুদ্ধের সেই পূর্বাভাসের কারণেই আজকের দিনটিতে সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বুদ্ধের নির্দেশিত অনিত্য ভাবনা বা জীবনের নশ্বরতা নিয়ে গভীর চিন্তা করেন। ইহকাল ও পরকালের সুন্দর ও শান্তিময় জীবন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা ধ্যান-সমাধি করেন এবং নিজেদের জীবনকে শীলময়, ভাবগম্ভীর ও বিশুদ্ধরূপে গড়ার কঠোর সংকল্পে ব্রতী হন।
ডিবিসি/এএমটি