বাঙালি জাতির মুক্তিদাতার ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। শৈশবে যাঁর ডাকনাম ছিল ‘খোকা’, সময়ের পরিক্রমায় সেই সাধারণ কিশোরটিই হয়ে ওঠেন বাঙালির প্রাণপ্রিয় ‘মুজিব ভাই’ এবং সবশেষে জাতির পিতা ‘বঙ্গবন্ধু’।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল কিশোর বয়সেই। গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে তিনি প্রথমবার কারাবরণ করেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে তিনি তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির একক নেতায় পরিণত হন। তাঁর অমোঘ আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি বীরের বেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর ১২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার বর্বরোচিত হামলায় সপরিবার নিহত হন বাঙালির এই মহানায়ক। আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করছে তাঁর অসামান্য অবদানকে।
ডিবিসি/টিবিএ