রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে শুরু হওয়া রেললাইন অবরোধ কর্মসূচি দীর্ঘ আট ঘণ্টা পর প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিভাগীয় কমিশনার ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অবরোধের কারণে অন্তত ১০টি ট্রেনের শিডিউলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে এবং আরও কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিলের আশঙ্কা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় প্রশাসন পাঁচটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রেলওয়ে ও বিভাগীয় কমিশনের পক্ষ থেকে যথাক্রমে তিন ও পাঁচ সদস্যের দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন, গভীর রাতে রাজশাহীতে পৌঁছানো তিনটি ট্রেনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা এবং ট্রেনের শিডিউলের সাথে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শাটল বাস সেবা চালু করা। এছাড়াও, আহত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী ৬ আগস্ট পুনরায় একটি সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে সভায় অংশগ্রহণ করেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। সভা শেষে কর্তৃপক্ষের দেওয়া রেজুলেশন তুলে ধরে তিনি অবরোধ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের আশা ব্যক্ত করেন এবং রেল অবরোধের কারণে অপেক্ষমাণ সাধারণ যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ডিবিসি/পিআরএএন