কলকাতার ‘হোটেল শিখা ইন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। গত ১৮ ও ১৯ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ঘটা ওই আগুনে এক তিন বছর বয়সী শিশু, দুই নারী ও ছয় পুরুষসহ মোট নয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক, একজন ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা এবং অপরজন পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বীরেশ্বর মিত্র হোটেলটির মূল মালিক হলেও সম্প্রতি তিনি মাসে ৪০ হাজার টাকার চুক্তিতে আবু জাফর নামের এক ব্যক্তির কাছে এটি লিজ দিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর বুধবার বিকেলে আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হলেও বীরেশ্বর আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার পরদিন বুধবার সকালেই তিনি প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। পুলিশের ধারণা, ধানবাদে তাঁর হোটেলের কিছু কর্মী থাকায় তিনি তাদের সহায়তায় সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পলাতক থাকা অবস্থায় সিটের গোয়েন্দারা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘা ও মন্দারমণিতে বীরেশ্বরের মালিকানাধীন অপর দুটি হোটেলেও অভিযান চালান, তবে সেখানে তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে পুলিশ তাঁর দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। পুলিশের অনুমান, আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং অর্থের সংকটে পড়েই তিনি কলকাতায় ফিরে আসতে বাধ্য হন।
শনিবার দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় নিজ বাসভবনে বীরেশ্বর মিত্র ফিরতে পারেন এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাড়িতে প্রবেশ করার পরপরই গোয়েন্দারা তাঁকে হেফাজতে নেন। তাঁকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।