বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো পা রাখার যে স্বপ্ন ইরান বুনছিল, রবিবার (২৮ জুন) তা চিরতরে ভেঙে গেছে। দলটির ভাগ্য পুরোপুরি নির্ভর করছিল অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া ম্যাচের ফলাফলের ওপর। এই দুই দলের যেকোনো একটির হার ইরানকে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট এনে দিত। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে, আর তাতেই কপাল পোড়ে ইরানের। শেষ পর্যন্ত রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করে অস্ট্রিয়া।
তবে ইরান কি আগেই এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির আঁচ পেয়েছিল? গ্রুপ পর্বে মিসরের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলার পর ড্রেসিংরুমে তাদের ফেলে যাওয়া একটি আবেগঘন চিরকুট অন্তত সেই ইঙ্গিতই দেয়। নিজেদের আত্মমর্যাদা ও সম্মানের বার্তা দিয়ে যাওয়া সেই চিরকুটে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার নামের পাশে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেখা ছিল ‘ফেয়ার প্লে’। সেখানে উল্লেখ করা হয়, নিরপেক্ষতা কেবল ফুটবলের কোনো সাধারণ নিয়ম নয়, বরং এটি যেকোনো খেলার মূল আত্মা।
ফেলে যাওয়া সেই চিরকুটের শুরুতে লেখা ছিল, ‘আমরা ইরান থেকে এসেছি, এটি এমন এক ভূখণ্ড যা হাজার বছর ধরে বিজয়ের চেয়ে আত্মসম্মানকে সবার উর্ধ্বে স্থান দিয়েছে।’ এরপর সেখানে আরও লেখা হয়, ‘ফুটবল আমাদের কাছে কেবলই ফলাফলের কোনো প্রতিযোগিতা নয়, এটি চরিত্রের পরীক্ষাও বটে। পয়েন্ট হয়তো নানা উপায়ে জেতা সম্ভব, কিন্তু সম্মান ও শ্রদ্ধা সেভাবে অর্জন করা যায় না। একটি দল হয়তো গ্রুপ পর্ব পার হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে চলে যেতে পারে, কিন্তু কেবল সততা ও সম্মানের মাধ্যমেই ইতিহাসের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব।’
খেলা মাঠের হলেও এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র হওয়ায় শুরু থেকেই ইরানের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব প্রকট ছিল। অন্যান্য দলের মতো তাদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকভাবে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে পুরো আসরজুড়ে মেক্সিকোতে অবস্থান করে কেবল ম্যাচের দিন ২৪ ঘণ্টার বিশেষ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মাঠে নামতে হয়েছে ইরানি ফুটবলারদের।
ডিবিসি/এফএইচআর