ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জব্দ হওয়া হাতিটি অবশেষে আদালতের নির্দেশে তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফরিদপুরের একটি আদালত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তরের জন্য সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় একটি হাতি দিয়ে রাস্তায় চাঁদা তোলা হচ্ছিল। সে সময় চাঁদাবাজি এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ইজিবাইকে মায়ের সঙ্গে থাকা আরিশা জান্নাত নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে (২৪) গণপিটুনি দিয়ে হাতিসহ আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাহুতকে উদ্ধার করে এবং হাতিটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন পুলিশ আটক মাহুতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় এবং জব্দ করা হাতিটি ফেরত বা হস্তান্তরের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করে।
পরবর্তীতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী হাতিটির প্রকৃত মালিক, নওগাঁ জেলার ব্যবসায়ী দুলাল দেওয়ানের কাছে এটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। ব্যবসায়ী দুলাল দেওয়ান সার্কাস পরিচালনা না করলেও বিভিন্ন সার্কাস দলের কাছে হাতি ভাড়া দিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে বিশাল আকৃতির হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রাখা ছিল। প্রতিদিন একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির বিশাল খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পুলিশ ও মাহুতকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। থানা প্রাঙ্গণে স্থায়ী খাদ্যব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে কলাগাছ, ঘাস ও অন্যান্য খাবার সংগ্রহ করতে হতো।
এদিকে থানায় হাতি রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ এটি দেখতে থানা প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও সতর্ক অবস্থান নিতে হয়। হাতিটির সার্বক্ষণিক পরিচর্যা ও খাবার জোগানোর দায়িত্বে ছিলেন মালিকের পাঠানো নতুন মাহুত নাজমুল সরদার (১৭)।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, আদালতের নির্দেশের কপি হাতে পাওয়া গেছে। আইনি সব প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে হাতিটিকে তার মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
ডিবিসি/এমএনকে