আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

আদালতের বাধার মুখে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক ১০ শতাংশ হারে কার্যকর

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি ও আইনি টানাপোড়েনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী কিছু শুল্ক পদক্ষেপ আটকে দেওয়ার পর ট্রাম্প এই হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার হুঁশিয়ারি দিলেও, শেষ পর্যন্ত সরকারি নথি অনুযায়ী প্রাথমিক হারেই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৫০ দিন পর্যন্ত শুল্ক ধার্যের বিশেষ এখতিয়ার প্রদান করে।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে এই অস্থায়ী শুল্কের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধের সংকট মোকাবিলা এবং দেশের কৃষক, শ্রমিক ও উৎপাদকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে এই কৌশল গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে এর সুফল নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

এর আগে ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক সংগ্রহ করেছিল। তবে গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানায়, প্রেসিডেন্ট তার নির্ধারিত এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ওই শুল্ক আরোপ করেছিলেন।

 

আদালতের এই রায়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ ফেরত পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। ‘উই পে দ্য ট্যারিফ’ নামক শুল্ক বিরোধী একটি ক্যাম্পেইন গ্রুপ অবিলম্বে এই বিশাল অংকের অর্থ কোম্পানিগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

 

তবে সংগৃহীত অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শুক্রবারই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শুল্ক ফেরত দেওয়ার ইস্যুটিতে তার প্রশাসন পিছু হটবে না এবং প্রয়োজনে আগামী পাঁচ বছর আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। ফলে নতুন শুল্ক কার্যকর হলেও পুরনো শুল্কের অর্থ ফেরত নিয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বিচার বিভাগের দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

 

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন