মুন্সিগঞ্জের চরাঞ্চল মোল্লাকান্দিতে রাজনৈতিক দলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও সহিংসতা থামছেই না। ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর বিরোধে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, আর স্বজনহারাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে এলাকার বাতাস। স্থানীয় সচেতন মহল এই পরিস্থিতির জন্য বিচারহীনতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন।
সম্প্রতি আধিপত্যের লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরিফ মীর। তার বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল, অবুঝ শিশুটি শূন্য দৃষ্টিতে বাবাকে খুঁজছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিক মল্লিক এবং সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক উজির আহমেদ ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আওলাদ হোসেনের গ্রুপের মধ্যকার দ্বন্দ্বে এই সংঘাতের সৃষ্টি। আতিক মল্লিক এই ঘটনার জন্য উজির গ্রুপের ওপর দায় চাপালেও উজির আহমেদ এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
মোল্লাকান্দিতে ককটেল বিস্ফোরণ, গোলাগুলি ও সংঘর্ষ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মৃত্যুর রেশ না কাটতেই আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতার পালাবদলে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলো, যার ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রাণহানি বাড়ছে।
সচেতন নাগরিক কমিটি মুন্সিগঞ্জের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ-ই-হাসান তুহিন মনে করেন, বিচারহীনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়সারা পদক্ষেপের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির দাবি করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে। স্থানীয়রা এখন মোল্লাকান্দিতে সহিংসতা বন্ধ হয়ে শান্তি ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
ডিবিসি/পিআরএএন