বাংলাদেশ, জাতীয়

আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হলো সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এই সচিবালয়ে কর্মরত সকল বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব বিচারককে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করলেও বর্তমান বিএনপি সরকার তা আর আইনে পরিণত করেনি।


১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত ২২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবে’। তবে এরপর ২০ বছর অতিক্রান্ত হলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।


১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন গ্রেড নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারকের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৭ সালে রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট জুডিশিয়াল সার্ভিসকে একটি স্বতন্ত্র সার্ভিস হিসেবে ঘোষণার আদেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। ১৯৯৯ সালে ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। রায়ের প্রধান নির্দেশনাগুলো ছিল:
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের থাকবে।
বিচার বিভাগ জাতীয় সংসদ বা নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকবে না এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব বিচারক স্বাধীনভাবে কাজ করবেন।
অধস্তন আদালতের (নিম্ন আদালত) বার্ষিক বাজেট প্রণয়নে নির্বাহী বিভাগের কোনো হাত থাকবে না। এই বাজেট সুপ্রিম কোর্ট নিজেই প্রণয়ন ও বরাদ্দ করবে।


আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক ঘোষণা করা হয়। তবে সেই ঘোষণা দীর্ঘকাল কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর, ১০ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।


নিয়োগের পর ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে দেওয়া এক অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। সংবিধানের ১১৬(ক) অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের বিচারকরা বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিচারকদের প্রকৃত স্বাধীনতা ততদিন পর্যন্ত নিশ্চিত হবে না, যতদিন না বিচার বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা (অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ এখতিয়ার) সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।


এরই ধারাবাহিকতায়, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি পৃথক সচিবালয় গঠনের একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠান।


পাশাপাশি, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোর সুপারিশ করে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে ঘোষিত নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের মূলনীতিকে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে অর্থবহ ও কার্যকররূপে বাস্তবায়নে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন করা অপরিহার্য।


সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের উদ্দেশ্যে বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল-যা বর্তমান মেয়াদে আর আইনে রূপ নিলো না।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন