বাংলাদেশ, জাতীয়

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: নারী-শিশুসহ ২৫০ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নিখোঁজ

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবে অন্তত ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশি নাগরিক আছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক যৌথ বিবৃতিতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রলারটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূল টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এর গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া। তবে মাঝপথে আন্দামান সাগরে প্রচণ্ড বাতাস এবং উত্তাল সমুদ্রের কবলে পড়ে যানজটপূর্ণ ট্রলারটি। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই হওয়ার কারণে ভারসাম্য হারিয়ে সেটি ডুবে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ইউএনএইচসিআর ও আইওএম তাদের বিবৃতিতে এই প্রাণহানির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই সমাধানের অভাবকে দায়ী করেছে। বিবৃতিতে উঠে আসা মূল কারণগুলো হলো: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে, শরণার্থীশিবিরগুলোতে খাবারের সংস্থানসহ মানবিক সহায়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে, শিবিরে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তরুণ প্রজন্ম হতাশ হয়ে পড়ছে এবং উন্নত জীবনের মিথ্যা আশ্বাস ও পাচারকারীদের ভুল তথ্যে প্রলুব্ধ হয়ে মানুষ এই মরণফাঁদে পা দিচ্ছে।


বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাদ্বয় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে এবং সংহতি জোরদার করতে বিশ্ববাসীর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, এই সহায়তা কেবল রোহিঙ্গাদের জন্যই নয়, বরং তাদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য।


বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যখন উৎসবের আমেজে নতুন বছরকে বরণ করছে, তখন এই ট্র্যাজেডি আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধান করা কতটা জরুরি। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি না করলে এমন জীবনহানি ঠেকানো অসম্ভব।


উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে আন্দামান সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সম্মিলিত আঞ্চলিক উদ্যোগ ছাড়া এই মরণযাত্রা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন