ভারত জুড়ে তুমুল বিক্ষোভের মুখে অনশন ভাঙলেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছেন আন্দোলনকারীরা। মেডিকেল স্কুলের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে লখনউ ও দিল্লিতে চলমান এই আন্দোলনে যুবদের ঢল নেমেছে, যা ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় যুব চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া এই জালিয়াতি ও নকলের সুযোগ তৈরির ক্ষোভে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। এরপরই স্বঘোষিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ব্যানারে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
টানা ২৬ দিন অনশনের পর শুক্রবার আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন শেষ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের অনুরোধ, দীর্ঘ আলোচনা এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতার বিষয়টি বিবেচনা করে দুজন ফেডারেল মন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনি ইফতারের মাধ্যমে অনশন ভাঙেন।
ওয়াংচুকের অনশন ভঙ্গের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলতে এবং হারানো ওজন পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ৫৫ বছর বয়সী ওয়াংচুককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সোনম স্যারের ত্যাগ বৃথা যেতে দেব না। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
সোমবার সংসদ অভিমুখে হাজার হাজার মানুষের মিছিলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়। পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেন। রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরের পাশাপাশি রাঁচি, পুনে, তিরুবনন্তপুরম ও কলকাতার মতো প্রধান শহরগুলোতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং যন্তর মন্তর এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাণিজ্যিক কেন্দ্র কনট প্লেসের সমস্ত দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আগেভাগে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিরসন ও পরীক্ষা সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিচারে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, ‘বারবার কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, সরকার মূল সমস্যার সমাধান না করে কেবল আদালত গঠন করছে।’
বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই যুব আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এর ফলে সংসদের চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশন ব্যাহত হচ্ছে। বলিউড তারকা সালমান খান, আলিয়া ভাট ও কারিনা কাপুরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি তাঁদের সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
অনলাইন ব্যঙ্গ হিসেবে ছোট আকারে শুরু হওয়া সিজেপির এই আন্দোলন এখন দেশের কর্মসংস্থান সংকট ও ঘন ঘন প্রশ্নপত্র ফাঁসে অতিষ্ঠ তরুণদের ক্ষোভের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনশন স্থগিত হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়তে নারাজ।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এমএনকে